ইসলামপুরে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ধানক্ষেত, দিশেহারা কৃষকরা

Islampur, blast disease, infected, paddy field,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: চলতি বোরো মৌসুমে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ইরি ধানক্ষেতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ব্লাস্ট রোগ। ব্রি-২৮ জাতের ধানক্ষেতে গত বছরের মতো এবারও ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। 

কৃষি অফিস জানিয়েছে, সতর্কতার জন্য কৃষকদের সঠিক সময়ে পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে যাতে ওই রোগ ছড়াতে না পারে। তবে কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। কৃষি অফিস থেকে কোনো কর্মকর্তা এখনও কৃষকদের কোনো দিক-নির্দেশনা দেয়নি। এতে কৃষকরা চরম হতাশায় রয়েছেন।

উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ গ্রামের কৃষক অনপদ্দি ডিহিদার জানান, তিনি ১২০ শতাংশ জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। দুইদিন আগে ক্ষেতে গেলে তিনি দেখতে পান, ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। ক্রমেই পুরো ধানক্ষেতের ধানের শীষ চিটা হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি দিশাহারা হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে কৃষি অফিস তদারকি করা দূরের কথা; এখন পর্যন্ত তাদের কোনো কর্মকর্তার চেহারাও দেখা যায়নি। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের যদি সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দেয়া হতো, তবে এতবড় ক্ষতি হতো না।

পৌরসভার নটারকান্দা গ্রামের কৃষক রহমত আলী জানান, প্রথমে এ রোগ দু-একটি শীষে দেখা দেয় এরপর দু-তিন দিনের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত ধানক্ষেতে। বারবার কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো কাজ হয় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাথর্শী ইউনিয়নের হাড়িয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক ওমর আলী হাজী ৩০ শতাংশ জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। তার পুরো ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ধানের শীষ চিটা হওয়ায় তিনি নিরুপায় হয়ে ধান কেটে খড় হিসাবে বিক্রি করছেন।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মতিয়ার রহমান কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমরা সঠিক সময়ে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণ করেছি। যাতে এ ব্লাস্ট রোগ ধান ক্ষেতে ছড়াতে না পারে।

ad