ত্রিশালে ফলজ বাগানে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

Trishal, fruit gardens, interest, farmers,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ত্রিশালে অনাবাদি জমিতে ফলজ বাগান করার আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় গ্রামে গ্রামে বাগান করার উদ্যোগ নিচ্ছেন চাষীরা। উপজেলার অনাবাদি জমিতে ১০টির মতো ফলজ বাগানে কাজ করে প্রায় ২০০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

তবে রাস্তার বেহাল অবস্থায় বাগানের ফসল সঠিকভাবে বাজারজাত না করতে পেরে হতাশায় ভুগছেন এখানকার কৃষকরা। ফলজ বাগানে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে বিনা সুদে ঋণ দেয়ার কথা জানালেন কৃষি কর্মকর্তারা।

ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের কৈতরবাড়ি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ১৯ বছর মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবে ফলজ বাগানে কাজ করেন। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০১৪ সালে ৫ একর পৈত্রিক জমিতে ফলজ বাগান শুরু করেন তিনি।

Trishal, fruit gardens, interest, farmers,

তার বাগানে এখন প্রায় ২০ ধরনের ফলজ গাছ রয়েছে। সেখান থেকে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে লক্ষাধিক টাকা। সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে অনেক বেকারের। রফিকুল ইসলামের বাগান দেখে এলাকার অনেকেই আগ্রহী হয়ে বাগান চাষ শুরু করেছেন।

বাগান মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ১৯৯৪ সালে দেশের বাইরে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমাই। দীর্ঘ ১৯ বছর সৌদি আবর এবং মালয়েশিয়া ফলজ বাগানে কাজ করি। বিদেশ থেকে দেশে ফিরে কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে বাগান করার উদ্যোগ নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আমার বাগানের গাছগুলোতে ফল ধরছে। তা থেকে প্রতি মাসে আয়ও হচ্ছে। বাগানে রয়েছে লেবু, মাল্টা, কলা, আমড়া, পেঁপে, উড় বরই, আমলকি, লিচু এবং আমসহ ২০ ধরনের ফলের গাছ।

তবে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ফসল ঠিকমত বাজারজাত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি রাস্তাঘাট মেরামত করার পাশাপাশি বিনা সুদে সরকারের প্রতি ঋণ প্রদানেরও দাবি করেন।

Trishal, fruit gardens, interest, farmers, 3

বাগান রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত দুইজন শ্রমিক জানান, আমরা একসময় বেকার ছিলাম। এখন রফিকুল ইসলাম ভাইয়ের বাগানে কাজ করে প্রায় ১৪ জন শ্রমিক সংসার চালাচ্ছি। তবে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে আমদের পরিশ্রম বেশি হয়। তাই সরকারের প্রতি আমাদের দাবি, দ্রুত যেন রাস্তাঘাট মেরামত করে দেয়।

রফিকুল ইসলামের দুই প্রতিবেশি বাগান চাষী বলেন, একসময় রফিকুল ইসলামের বাগান করা দেখে আমরা হাঁসি-মসকরা করতাম। কিন্তু এতে অধিক লাভ হওয়ায় আমরাও তার কাছ থেকে বিভিন্ন ফলের চারা নিয়ে বাগান করা শুরু করেছি। আমাদের বাগানে ফলও আসছে।

মোক্ষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অনাবাদি জমিতে ফলজ বাগান করে রফিকুল ইসলামের মতো অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তবে রাস্তাঘাট খারাপ থাকায় কৃষকরা তাদের ফসল সময় মতো বাজারজাত করতে পারছে না।

তিনি বলেন, রাস্তাঘাট ঠিক হলে এই এলাকায় কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে। তাই আমি রাস্তাঘাট সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ত্রিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলীপ কুমার পাল বলেন, একসময় এই এলাকার মানুষ অনাবাদি জমিতে কিছুই করতে সাহস করতো না। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ফলজ বাগান করার জন্য নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যার ফলে কৃষকরা বাগান করার দিকে ঝুঁকছেন।

ad