কৃষকের জন্য অর্ধেক দামে মিলছে আধুনিক কৃষি যন্ত্র

করোনাকালে খাদ্য শস্য উৎপাদনে কৃষির উপর গুরুত্ব আরোপ এবং ফসল উৎপাদন অধিকতর সহজ এবং ব্যায় কমানোর জন্য গুরুত্ব আরোপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। কৃষিকে আধুনিক ও গতিশীল করতে ফসল চাষাবাদে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কৃষি যন্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। 


ইতিমধ্যে ব্যয় সাশ্রয়ী চাষাবাদের বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মাঠ পর্যায়ে এর সুফলও পেয়েছে কৃষকেরা। 


এরই ধারাবাহিকতায় 'সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের' আওতায়  বিভিন্ন ধরনের ফসল বপন, রোপন, কর্তন,ধোঁয়া, পাওয়ার স্প্রে মেশিন ও শুকানোর কাজে ব্যবহৃত ড্রয়ার সহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্র ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।    


ভর্তুকি মূল্যের এসব প্রত্যেকটি যন্ত্রের স্বতন্ত্র সুবিধা রয়েছে, যা ব্যবহার করলে কৃষকরা বর্তমান প্রচলিত সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের চেয়ে অধিক লাভবান হবে।


৩ হাজার ২০ কোটি টাকার সারাদেশব্যাপী  চলমান এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রিপার বাইন্ডার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, সিডার ও বেড প্লান্টার, পাওয়ার থ্রেসার, মেইজ শেলার, ড্রায়ার, পাওয়ার স্প্রেয়ার, পটেটো ডিগার, ক্যারেট ওয়াশার ও আলুর চিপস তৈরীর মেশিন অঞ্চল ভেদে ৭০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।


রাজীবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত উপ- সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 


আধুনিক এসব কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ফসল চাষাবাদের সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে অন্তত ৫০ শতাংশ। উৎপাদন ব্যায় কমবে ২০ শতাংশের মত এবং ফসল কর্তন ও পরিবহনে অপচয় কমবে ১০ শতাংশ। যন্ত্রের ব্যবহারে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং সহজ হবে।এতে খাদ্য সংকট এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গতি বাড়বে।


কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল চাষে নীবিড়তা ও ফলন বৃদ্ধি পাবে, ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়সহ ফসল কর্তনজনিত ক্ষতি অনেকাংশে কম হয়। কৃষকদের সময় এবং শ্রম বাঁচাবে। যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষককে লাভবান করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ করবে কৃষক এতে সময় বাঁচার ফলে অতিরিক্ত একটি ফসলও ফলাতে পারবে কৃষকরা।এগিয়ে যাবে কৃষি এবং রপ্তানি বাড়বে কৃষিপণ্যের।  


রাজীবপুরে উপজেলার সদর ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে কম্বাইন হারভেস্টার এবং রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের বানিজ্যিক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।গত অর্থবছরে কয়েকজন কৃষক কম্বাইন হারভেস্টার কিনে বানিজ্যিক ভাবে কৃষকদের সেবা দিচ্ছে।এছাড়াও একটি প্রকল্প থেকে কৃষক গ্রুপের মাঝে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। 


আধুনিক ও সময় সাশ্রয়ী এসব কৃষি যন্ত্র ক্রয়ের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা।


স্থানীয় জনপ্রিতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় আগ্রহী কৃষকদের কাছ থেকে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে ধান রোপনের জন্য রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কর্তন ও মাড়াই ও বস্তাবন্দি করার জন্য কম্বাইন হারভেস্টার,ভুট্টা,ধান ও গম মাড়াইয়ের জন্য পাওয়ার থ্রেসার কিনতে আগ্রহী কৃষকদের কাছে দরখাস্ত আহবান করা হয়েছে।


উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে এই আবেদন পত্র জমা দিতে হবে।পরে কৃষকের চাহিদা মত যন্ত্র ক্রয়ে সর্বাত্নক সহযোগিতা করবে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।নগদ মূল্যের পাশাপাশি কিস্তি সুবিধারও সুযোগ থাকছে এসব যন্ত্র ক্রয়ে।একই যন্ত্র বিভিন্ন ব্রান্ড থেকে পছন্দের সুযোগও রয়েছে ক্রয়ের ক্ষেত্রে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছেও এসব যন্ত্র ক্রয়ের আবেদন পত্র পূরণে সহায়তা পাওয়া যাবে।   


রাজীবপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি আরও বলেন,এই প্রকল্প থেকে ইতিমধ্যে কয়েকটি যন্ত্র উপজেলার কৃষকরা কিনেছে। নিয়মিত ব্যবহারও করছে। যন্ত্রের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দূর্যোগেও কৃষক সহজে ফসল ঘরে তুলতে পারবে।এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং সময় বাঁচবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিও শিল্পোন্নত দেশের কৃষির মত আধুনিক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামার বাড়ি সূত্রে জানা গেছে জেলার ৯ টি উপজেলার কৃষকরা এই সুবিধার আওতায় কৃষি যন্ত্র কিনতে পারবে।