উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল-এর কবিতা

উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল
কবি উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল
ad

মুখোশকে নয় মুখকে প্রশ্ন
-উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল

ধর্মাবতার,
আমার পক্ষে কোনো উকিল বা কোনো সাক্ষী নেই,
আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের শাস্তি আমি মাথা পেতে নেব ৷

শুধু একটি অনুরোধ ধর্মাবতার,
আপনার বিচারের কাঠগড়ায় তাকে একবার দাঁড় করান ৷

তার আবরণ কে নয়….!
তার চোখ, তার ঠোঁট, আর তার হৃদয়কে…….
তার মাথার চুল থেকে পা এর আঙুল পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি ইঞ্চি স্নায়ুকে জিজ্ঞাসা করুন,
আমি জানি তারা মিথ্যা বলবে না, তারা মিথ্যা বলতে পারে না তারা এখনো আমার জন্য……. ৷

জিজ্ঞাসা করুন ওর চুলকে, বসন্ত হয়ে উড়িয়ে ছিলাম কিনা ওর কালো মেঘ,
জিজ্ঞাসা করুন ওর খরা গ্রস্ত ঠোঁটকে, আমার ওষ্ঠের বৃষ্টি প্রত্যাশা করেছিলো কিনা ওর ঠোঁটের আঙিনা…..
জিজ্ঞাসা করুন ধর্মাবতার ওর সাদাকালো চোখকে, ভালোবাসার রামধনু চিনিয়ে ছিলাম কি না !
তার সমস্ত অনুর্বর জমি প্রেমের উজানে প্লাবিত হয়েছিলো কি না জিজ্ঞাসা করুন ?
তার প্রতিটা শিরা উপশিরা পরিক্ষা করুন আমাকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে……!

ধর্মাবতার…
আপনার রায় ঘোষণার আগে একবার জেনে যেতে চাই ,
একবার জিজ্ঞাসা করুন !
আমি মাথা পেতে নেবো ধর্মাবতার….তার দেওয়া সকল দায়……
প্রশ্ন করুন তাকে,
মুখোশ কে নয়,
তার মুখকে ৷

#বৃত্ত#
উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল

কবিতার বৃত্তে আজ কাটছে কদিন ৷
গোলাকার টেবিলে ঘুরে ঘুরে আসে,
ভালবাসা প্রেম বেদনা ব্যথা অংক জ্যামিতি
সাদাকালো কিংবা রঙ্গিন ৷

মেতে থাকি মেতে থাকে
মশগুল থাকি গুলবাহারে ৷

এরই মাঝে, মাঝেমাঝে
উঁকি দেয় কারা,
এখনো বাজার হয়নি সারা
ঘরে ফিরবার তাড়া ৷

কারো কারো স্বপ্ন রঙ্গিন
বৃত্তে কাটাবে রাত্রি দিন
দিন রাত্রি, রাত্রি দিন ৷

বিরক্ত করে,
পিছে পিছে ঘোরে,
চাল ডাল তেল নুন
মুহুর্ত গুলো করে খুন ৷

বোঝাতে পারিনা কবিত্ব
কবিতার অমরত্ব ৷

কুড়িয়ে পাওয়া ঈশ্বর
-উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল

ঈশ্বর পড়েছিল পথের পরে সন্ধ্যা বাজারে !
সেখানে আমি ছাড়া, শত শত ভক্ত ছিল তাঁর ৷
ভক্তের ভগবান্‌ মিথ্যা হল সেই ক্ষণে, যে ক্ষণে শুধু,আমি দেখেছি তাঁরে ৷

বাম হাতে বিবেকের গলা টিপে, ডান হাত, সুচতুর হয়ে তুলেছে পকেটে ৷

স্বামীর পকেট গড়ের মাঠ, প্রিয়তমা আমার, ইচ্ছে দমন করেছে বহুবার ৷

বাড়ন্ত ছিল অনেক কিছু, চাল, ডাল,তেল,নুন ৷
ঈশ্বরের কৃপায়, সে গুলোর সাথে, কিনে ফেলি, ছোট খাট ইচ্ছে পূরণ ৷

আজ আর হেটে নয়, বাসায় ফিরি, রিকশা চেপে৷
ভাড়ার সাথে, সেও কিছু বেশি পায় কুড়িয়ে পাওয়া ঈশ্বর ৷

রাতে, মেঝেতে পাটি পেতে, ভগবান্‌ ‘র দেওয়া প্রসাদ, খেয়েছি চেটেপুটে ৷

কৃষ্ণনিশিথে, বউ ‘র হাসিতে, জোছনা নামে, ভাঙা বুকে, দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি, আমিও গান ধরি
“মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না….”

দুঃস্বপ্নের ভালোবাসা
-উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল

বিশ্বাস করো আমি কষ্টে নেই…
আমার কষ্ট তোমার কথা ভেবে…..
আমাকে ভুলতে কি যন্ত্রণায় ছটফট করছো তুমি……. !

“তোমার ঘর ভর্তি আমি !
তোমার ঠোঁট ভর্তি আমি !
তোমার শরীর ভর্তি আমি !
তোমার জীবন ভর্তি আমি……”

আমিময় কেবলিই আমিময় এসব তোমার দেওয়া উপহার পহেলা এপ্রিল..

তুমি উড়তে চেয়েছো আমি উড়িয়ে দিয়েছি……
আমার চোখের সীমানার বাইরে গিয়ে তুমিতো নিজেই নিজের বাঁধন কেটে নিয়েছো !
আমি সুতোহীন লাটাই হাতে বেশ আছি,

আরতো কেউ বলবে না জীবনকে মাঞ্জা দেবার কথা !
আরতো ভালোবাসার পাহারাদার হয়ে জেগে থাকতে হবে না ছয় ঋতু !
আরতো সারাদিনের টোটো পনা করবার জবাব চাইবে না কেউ !

জানি বড় বেশী ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলে…..
এই যুগে যুধিষ্ঠির তোমার সহ্য নয়……..
কিছু মিথ্যা মিশ্রিত প্রেম বড় বেশী ভালোবাসতে….. !

আমারো উচিত ছিলো প্রিয়তমা যা চায় তার পায়ে বিনা বাক্যে নিজেকে উজাড় করা……..!

কি করব বলো !
হাড় মাংস মজ্জায় যে ঢুকে আছে মন্ত্র,
ভালোবাসা মানে মাথা উচু করে বাঁচা,
ভালোবাসা মানে দেশ প্রেম,
ভালোবাসা মানে তোমার আমার তুমুল বিরহ ৷

তবুও,
তোমার ছলনাকে ভালোবেসে ছিলাম….
তুমি আমার সত্যকে পাপ মনে করেছিলে…… !
তোমাকে নান্দনিক জীবন দিতে চেয়েছিলাম…. !
তুমি আমার চোখ অন্ধকারে বেঁধে রেখেছিলে…… !

সত্যি বলছি আমি বেশ আছি….
একলা বড় বেশী ভালো আছি….
কষ্ট নয় শুধু চিন্তা আর চিন্তা
তোমার জন্য !
কি করে মুছবে
আমার দাগ !

আমিতো প্রথম চুম্বনে জেনেছিলাম অনেক কিছু লিখেছি দশ মার্চ এই কবিতা !

একটা কষ্ট ছুটে আসছে….
তবু আমি নীরোর মতো বাঁশি বাজাচ্ছি..
তুমি হাসছো গাইছো নাচছো……
আমার ভীষণ ভীষণ ভালো লাগছে…..

একটা দুঃখ ছুটে আসছে……..
তবু আমি সেতারে বসন্তের ঝালা বাজাচ্ছি………
তুমি বাসন্তী শাড়ী পরছো “আজি দখিনো দুয়ার….” গাইছো…..
আমার ভীষণ ভীষণ ভালো লাগছে……

একটা ভয় ছুটে আসছে………
তবু সানাই’র সুর বুকে সিঁদুর কিনছি….
তুমি সিঁথি ঠিক করছো গুন গুন স্বপ্নে ভাসছো……..
আমার ভীষণ ভীষণ ভালো লাগছে…

একটা একাকিত্ব ছুটে আসছে……
তবু আমি আনন্দ ভৈরব গাইছি….
তুমি ভোরের ফুল তুলছো আগামীর মালা গাঁথছো………
আমার ভীষণ ভীষণ ভালো লাগছে ৷

তুমি প্রশ্ন তুলেছিলে এমন করে কেনো ভাবি ?
সেদিন কোনো উত্তর দেয়নি সেদিনই জেনেছি তুমি নিজেই তোমার মুক্তিপত্র তৈরি করবে…..

প্লিজ
দুঃস্বপ্নের এই ভালোবাসাকে চাপা দাও
কর্পোরেট কোনো প্রেমের কবরে….
যেটা তোমার প্রত্যাশা ছিলো ভুল এক উন্মাদের কাছে ৷

প্রেমের শব যাত্রা
-উজ্জ্বল অনুজ্জ্বল

তোমার শব যাত্রায় খই পয়সা ছেটানো হবে না..
তোমার বাড়ি থেকে শ্মশান পর্যন্ত টুকরো টুকরো করে উড়ানো হবে আমার কবিতা…..
খোল করতাল নয় গলা ছেড়ে গাইব তোমাকে লেখা তোমার প্রিয় গান…..
তোমার দেহের শেষ স্নানের পর কবিতা দিয়ে মোছাবো তোমার শরীর……
কবিতার ছন্দ উপমা অনুপ্রাস দিয়ে এঁকে দেব তোমার কপালে চন্দনের তিলক…….
কবিতা দিয়ে থরে থরে সাজাব তোমার চিতা…..
পরনে থাকবে আমার লেখা কবিতার লাল শাড়ী……..
এখনি চলে যেওনা !
আরো কিছু বসন্ত সময় দাও !
তোমার শেষকৃত্যর জন্য আরো কিছু লেখা বাকি যে আমার…… !!
সকল লেখা যে তোমার চিতায় উৎসর্গ হবে ৷

ad