মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি সংস্কৃতি বিরোধীদের রুখতে অবস্থান কর্মসূচি

sommilito shangiskriti jot
ad

নিজস্ব প্রতিবেদক: হেফাজতের ভাস্কর্য বিরোধী অবস্থান ও পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশের আয়োজন করেছেন।

আজ শনিবার দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি ও সমাবেশ শুরু হয়। যা চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বলেন, সাম্প্রতিককালে হেফাজতের হুমকি কোন ভাবেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ মেনে নেবে না। হেফাজতের দাবিতে ভস্কর্য অপসারণ, শিক্ষা ব্যবস্থায় সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ভিন্ন বাংলাদেশের চিত্র ফুটে ওঠে।

Hasan arif

বাঙলির বায়ান্ন থেকে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, “বাঙালি জাতিস্বত্তা আজ মৌলবাদী আক্রমণের মুখে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে এই সংকট থেকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি নাছির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “মৌলবাদী গোষ্ঠি আজ বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংসে চেষ্টা চালাচ্ছে। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে তারা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিচ্ছে। সকল পেশায় আজ মৌলবাদী প্রবেশ করছে, সম্মিলিত প্রতিরোধ ছাড়া এদেরকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে না।”

Kamal pasha

চারুশিল্পী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চেীধুরী বলেন, “এদেশে সব পেশায় রাজাকার থাকলেও কোন চারুশিল্পী রাজাকার ছিল না। চারুশিল্পীরা মৌলবাদের বিরুদ্ধে সবসময় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে মৌলবাদী ও সামরিক শাসক গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে। ভবিষ্যতেও চারুশিল্পীরা সাম্প্রদায়িকতার কাছে মাথা নত করবে না। তারা ছবি আঁকবে, ভাস্কর্য তৈরি করবে। শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত এদেশকে মৌলবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে না।”

Golam Kuddus

অবস্থান কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, “মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বানে সংস্কৃতিকর্মীদের চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িতা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এবং প্রতি উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি তৈরি করতে হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে সরকারের মাথা নত করে কোন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না।”

নাট্যকার মামুনুর রশিদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা মান্নান হিরা, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর, চিত্র শিল্পী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

Cultural programe

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্যের মাঝে মাঝে কবিতা ও গান পরিবেশন করা হয়। এছাড়া চারু শিল্পী সংসদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদী চিত্রকর্ম প্রদশর্নী হয়।

চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২১ জুন সকল সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী জাতীয় কনভেশনের আহ্বান করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

ad