কুমিল্লায় হত্যা মামলায় স্থগিত থাকছে খালেদার জামিন

Khaleda Zia, Division, Application,
ad

জাগরণ ডেস্ক: কুমিল্লায় পেট্রোল বোমায় বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ মামলায় জারি করা রুল চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব হোসেন নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ ওই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন। শুনানি শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসানুর রহমান।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এর ফলে অন্য সব মামলাতেও যদি জামিন হয়, তারপরও আগামী এক মাসে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

বাস পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় করা এক মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের ওপর গত ২৪ জুন শুনানি শেষে ২ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ।

মাহবুবে আলম শুনানিতে বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যার ওই ঘটনার ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

তিনি বলেন, এতবড় নৃশংস ঘটনায় করা মামলার প্রধান ব্যক্তি হওয়ার পরও যদি তাকে জামিন দেয়া হয়, তবে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারগুলোর কছে কি বার্তা যাবে? ফলে আমার আরজি হলো, হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল করা হোক।

অন্যদিকে খন্দকার মাহবুব শুনানিতে বলেন, খালেদা জিয়ার সম্মানহানি করতেই পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। বিরোধীদলের ওপর দোষ চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে সরকারের এজেন্টরা পেট্রোল বোমা মেরে নাশকতা করেছে। তার দায়-দায়িত্ব বেগম খালেদা জিয়ার না।

খালেদা জিয়া ৭০ বছর বয়সী ‘অসুস্থ একজন নারী’ এবং তিনি ‘জীবন ঝুঁকিতে রয়েছেন’- এমন যুক্তি দেখিয়ে তার জামিন বহাল রাখার আবেদন করেন এই আইনজীবী।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন যাত্রীর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ২০ জন। সেসব ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়।

ad