খুলনায় ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনার প্রস্তুতি

Khulna vote
ad

জাগরণ ডেস্ক: জালভোটের অভিযোগ ও তিনটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের মধ্যদিয়ে কোনো সহিংসতা ছাড়াই খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গনণার প্রস্তুতি

মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তাদের অনেকেই বলেছেন, ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে।

এরপর বেলা ১টার দিকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে বিএনপির তাবু ভাঙচুর ও কেন্দ্রে হট্টগোল হওয়ায় একটি বুথ এবং ২২নং ওয়ার্ডের ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল সোয়া নয়টার দিকে ফাতিমা স্কুল কেন্দ্রে ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক এক নম্বর বুথে ঢুকে জোর করে ঢুকে নৌকা ও ঘুড়ি প্রতীকে সিল মারা শুরু করেন। এরপর ওই বুথের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়। খবর পেয়ে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সেখানে যান। এর ১০টায় আবার ভোটগ্রহণ শুরু হলেও পরে হট্টগোলের কারণে ভোট স্থগিত করা হয়।

এছাড়া, কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংসতা হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্টদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভোট দিয়েছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক ও বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু। উভয়ই ভোটে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে। কোথাও কোনো অরাজকতার ঘটনা ঘটেনি। আমি আমার জয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে সকলের সঙ্গে একসাথে কাজ করবো।

বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, অনেক কেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমার ভোটারদেরও বাধা দেওয়অ হচ্ছে।নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা যদি নিরপেক্ষ হয় তবে আমিই জায়ী হব।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

খুলনা সিটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছে চার হাজার ৯৭২ জন।

ad