গুলশান হামলার চার্জশিট গ্রহণ, হাসনাতকে অব্যাহতি

gulshan_terrorist
ad

জাগরণ ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টসানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৮ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলা থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ আগস্ট) সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারক মজিবুর রহমান এ চার্জশিট গ্রহণ করেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারী জঙ্গিরা। ওই দিন রাতেই তাঁরা দেশি-বিদেশি মোট ২০ জনকে হত্যা করে। বিদেশি যাঁরা নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের Hasnat karimমধ্যে ছিলেন জাপানের নাগরিক, আর্জেন্টিনার নাগরিক, ইতালির নাগরিক ও ভারতের নাগরিক।

সেদিনই উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

গত ২৩ জুলাই ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর।

আসামীদের মধ্যে ছয়জন কারাগারে এবং দুইজন পলাতক রয়েছেন। কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং হাদিসুর রহমান সাগর।

পলাতক দুইজন হলেন- শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। অভিযোগপত্রে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতিদানের সুপারিশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। যার মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানে ও পাঁচজন হলি আর্টিজানেই নিহত হয়েছেন। গুলশানের হলি আর্টিজানে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ নিহত পাঁচজন হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত ৮ জন হলেন- তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

হামলার পরদিন সকালে হলি আর্টিজান বেকারি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় তার নাম এই অভিযোগপত্রে আসেনি বলে আগেই জানিয়েছিলেন তদন্ত সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

ad