ঘূর্ণিঝড় মোরা’য় কক্সবাজার-রাঙামাটিতে ৫ জনের মৃত্যু

Storm-Mora
ad

জাগরণ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’য় দেশের উপকূলীয় এলাকায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের কক্সবাজারে ৩ জন ও রাঙামাটিতে ২ জনের মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানলে ওই সময় গাছচাপায় ৪ জন প্রাণ হারান। আরেক জনের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে ঝড়ে চকরিয়ায় একটি বাসার ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। এতে চাপা পড়ে সাহেরা খাতুন (৬০) নামে এক নারী মারা যান। এছাড়া দুলাহাজরা ইউনিয়নে রহমতউল্লাহ (৫০) আরেকজন গাছচাপা পড়ে প্রাণ হারান। এ ছাড়া কক্সবাজারের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ওঠা ময়িরম বেগম (৫০) ঝড়ের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ঝড়ে এখানে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন তিন জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ঝড়ে রাঙ্গামাটির বেতবেড়ি এলাকায় নাসিমা আকতার (১৩) ও শহরের আসাম বস্তির হাজেরা খাতুন (৪৫) গাছচাপায় মারা যান।

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। এতে সাগর উত্তাল হয়ে উঠে। পরে দুপুরে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ঘণ্টায় একশ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস নিয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটির মধ্যবর্তীস্থানে স্থলভাগে উঠে এসে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। এর প্রভাবে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন এ তথ্য জানান।

এদিকে দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোরা কুতুবদিয়ার নিকট দিয়ে কক্সবাজার- চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি বর্তমানে স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে রাঙামাটি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। স্থল গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এতে বলা হয়, গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরে উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড় মোরা কুতুবদিয়ার নিকট দিয়ে কক্সবাজার – চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোরা এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

মোরার কারণে সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বরিশাল বিভাগ। ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া, রাজধানীরর সঙ্গে বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বরিশালে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ।

গত শনিবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গতকাল সকালে তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। থাইল্যান্ডের প্রস্তাবে ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোরা’, যার অর্থ ‘সাগরের তারা’।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আঘাত হানা সিডরের গতি ছিল ২১৫ কিলোমিটার। ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানা আইলার গতি ছিল ১২০ কিলোমিটার। সিডরে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ প্রাণ হারান। আইলায় প্রাণ যায় ৩২৫ জনের। নিখোঁজ হন আরও অনেকে। সিডর ও আইলার সময়ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। আট বছর পর আবারও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে উপকূলবাসী।

ad