ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চাওয়ায় মেনে নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

Quota, cancellation, prime minister,
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেয়া হয়েছে। আমি এটা মেনে নিয়েছি। এখন আর এটা নিয়ে কথা কেন? এ নিয়ে আর আলোচনারও কিছু নেই। কোটার দরকার নেই।

বুধবার (২ মে) বিকালে রাজধানীর গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক শ্যামল দত্তের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা কোটাও বাতিল হয়ে গেছে। এখন পিছিয়ে পড়া বলে কেউ অভিযোগ করতে পারবে না। আন্দোলনের সময় অনেকের ছবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, এখন কেউ এসে পিছিয়ে পড়া হিসেবে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ করতেও পারবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছে, তাদের পরিচয় খুঁজে বের করেন। যখন সারাদেশে ছেলে-মেয়েরা আন্দোলনে নেমেছে, তখন আপনারা তো কিছুই বলেননি। বরং তাদের কাভারেজ দিয়েছেন। তাহলে এখন কেন এগুলো নিয়ে কথা হবে। আর স্বাধীনতার প্রায় ৪৬ বছর শেষ হলো। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা বড় হয়ে গেছেন। তাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান সহ্য করতে পারি না। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, প্রথম লিখিত পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়ে পাস করছে, তারা সবাই মেধাবী। এরপরে কোটার প্রশ্ন আসে। মেধা কোটাতেই কিন্তু সব কিছু করা হচ্ছিল। কোথাও কোটা পাওয়া না গেলে মেধা তালিকাতেই পূরণ হয়েছে। আগে থেকেই এটা নিয়ম ছিল। সেটা ৭২-৭৭ শতাংশ হারেই হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে কমনওয়েলথ সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই সফরকে আমার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এছাড়া বিশ্বদরবারে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আমাদের দেশে এসেছেন, তাদের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক, তারাও চান মিয়ানমার থেকে যে ১১ লাখ মানুষ এসেছে, তারা সেখানে ফিরে যাক।

অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল সামিট অন উইমেনে প্রাপ্ত ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ দেশের নারী সমাজের প্রতি উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন গণতান্ত্রিকভাবেই হবে। বয়সসীমার মধ্যে থাকা যোগ্যরাই ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসবে। ভোটের আগে সাধারণত সমঝোতা হয়। সে রকমই চেষ্টা করা হবে। যদি সমঝোতা ব্যর্থ হয়, তাহলে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তবে, ভোটে উল্টাপাল্টা কেউ আসলে তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি বলেন, সমঝোতায় সফল না হলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোট হবে। তবে ভোটের মাধ্যমে হওয়ারও একটা ঝামেলা আছে। তারা ইয়াং ছেলেপুলে, ভোটের মধ্যে অনেক কিছুই হতে পারে। তারা প্রভাবিত হতে পারে। তবে আমরা দেখবো যদি ভোটের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব এসেছে কিনা। না এলে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা জানেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে একটা উপযুক্ত বয়সসীমা রয়েছে, তাদের ছাত্র হতে হবে। এদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেঁছে নেয়া হবে।

শেখ হাসিনা ঢাকায় ট্রাফিক আইন না মেনে পথচারীদের পারাপারের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমার এই কথাগুলো অনেকে পছন্দ করবেন না, কিন্তু যা বাস্তব, তাই বলছি। রাস্তায় চলার নিয়ম আছে, সেটা আমরা কতটা মানি? একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে, আমরা হাত একটা তুলে রাস্তায় নেমে গেলাম। যারা পথচারী, তাদেরও কিছু রুলস জানা দরকার, মানা দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনি বাসে চড়ে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বাইর করে যাবেন? আপনারা (সাংবাদিক) যার হাত গেল, তার জন্য কান্নাকাটি করছেন। কিন্তু সে যে নিয়ম মানছে না, সে কথা তো বলছেন না।

হেলমেট ছাড়া মোটর সাইকেলে এবং সিটবেল্ট না বেঁধে গাড়িতে চড়াও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক পারাপারে পথচারীদের আইন মানার ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরিতে বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোকেও প্রচারের চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যারা পথে পারাপার হয়, তারাও নিয়ম মানে কি না, সেদিকে আপনারা একটু দেখেন। সড়ক দুর্ঘটনা হলেই আইন হাতে নিয়ে চালককে মারধর না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে তারা চেয়ারপারসন করল। বিএনপি নাকি সবচেয়ে বড়, জনপ্রিয় দল, তাদের দলে কি একজন যোগ্য লোকও নেই? এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে তারা চেয়ারপারসন করে? এ ধরনের রাজনৈতিক দেউলিয়া দল আর নেই।

ad