‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ উৎক্ষেপণ ১০ মে

'Bangabandhu Satellite-1', Launch, May 4,
ad

জাগরণ ডেস্ক: আগামী ১০ মে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ এর উৎক্ষেপণের নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (৭ মে) সকালে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) মো. জাকির হোসেন খাঁন এ তথ্য জানান।

ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চ প্যাড থেকে স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় এটি উৎক্ষেপণ করা হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের সময় ১১ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৭ মে সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ৮ মে) মহাকাশে যাত্রা করার কথা ছিল স্যাটেলাইটটির। তবে কারিগরি ত্রুটি ও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় নির্ধারিত দিনে মহাকাশে যাত্রা করতে পারেনি স্যাটেলাইটটি।

তবে ৪ মে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ হনকারী ফ্যালকন ৯ রকেটের ‘স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট’ সম্পন্ন হওয়ার ফলে উৎক্ষেপণের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা’র কেপ ক্যানাভেরালে কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে উৎক্ষেপণ করা হবে। এটির কক্ষপথ হবে মহাকাশের ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায়। স্যাটেলাইটটির নির্ধারিত স্লটে পৌঁছাতে আট দিন সময় লাগবে।

স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি স্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়েছে। প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ কেনা হয়।

স্পেসএক্স-এর ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে পাঠানো হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে। স্যাটেলাইটটি ১৫ বছর মেয়াদের মিশনে পাঠানো হচ্ছে।

এই কৃত্রিম উপগ্রহটি টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা দেবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ট্যারিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল থাকা, পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য, আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি থাকায় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ এর উৎক্ষেপণ মে মাসে ১০ তারিখের আগে হচ্ছে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের জন্য ৭ মে তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়।

স্যাটেলাইটের কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরু হলে আশপাশের কয়েকটি দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেম (৪০ ট্রান্সপন্ডার, ২৬ কেইউ ব্র্যান্ড, ১৪ সি ব্যান্ড)-এর গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।

নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। এটি তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর বিটিআরসির সঙ্গে টার্ন কি পদ্ধতি কোম্পানিটির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা বিডার্স ফাইনান্সিং-এর মাধ্যমে ব্যয় সংকুলান হয়েছে।

এদিকে, উৎক্ষেপণ উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সময়কে স্মরণীয় করে রাখতে সফল উৎক্ষেপণের পর রাজধানীর উল্লেখযোগ্য এলাকায় আতশবাজির উৎসব শুরু হবে। এছাড়া, ডিজিটাল আলোকসজ্জার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সব জেলায়ও এ উপলক্ষে উৎসব হবে।

সব মিলে অনুষ্ঠান আয়োজনে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। তবে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে বিটিআরসি থেকে সহায়তা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের উদ্যোগও নেবে ডাক অধিদপ্তর।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে। এর পর গত ডিসেম্বরে এর সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে ওড়ার উপযোগী ঘোষণা করা হয়।

এরইমধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বৈরী আবহাওয়া এবং আরও কিছু যুক্তিযুক্ত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে যায়। পরে তা উৎক্ষেপণের জন্য ৪ মে নতুন তারিখ নির্ধারিত করা হয়েছিল।

যদিও পরে জানা যায় ৪ মে তা উৎক্ষেপণ না হয়ে আগামী ৭ মে হতে পারে। কিন্তু আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি থাকায় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ এর উৎক্ষেপণ মে মাসে ১০ তারিখের আগে হচ্ছে না।

ad