ঘূর্ণিঝড় মোরা দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে

Beyond, cyclone, 'mora'
ad

জাগরণ ডেস্ক: বাংলাদেশের উপকূলের দিকে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ বাংলাদেশ ভূখণ্ড প্রায় অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে ঘূর্ণিঘড় মোরা উত্তর-পূর্ব দিকে সরে ভারতের মণিপুর রাজ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছে। প্রচুর বৃষ্টিপাতে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। 

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ মে) সকাল ৬টার দিকে ঘূর্ণিঝড় মোরা কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে ১৩৫ কি মি বেগে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এটি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। সকাল ১০টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছিল। ‘মোরা’ সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে আঘাত হেনে

বেলা ১১টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ বাংলাদেশ অতিক্রম করবে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি জানান,‘মোরা’র প্রভাবে ভোরে টেকনাফে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার ও সেন্টমার্টিনে ১১৪ কিলোমিটার। তবে এ ঘূর্ণিঝড়টি বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন গতিবেগে আঘাত হানছে। মোরা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে নিম্নচাপে পরিণত হবে।

শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরা উপকুলীয় অঞ্চল অতিক্রম শুরু করেছে। মোরা অতিক্রম করলেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে। এ সময়ে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া, অন্যান্য এলাকায় হালকা ও মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হতে পারে। মোরা সিলেট হয়ে ভারতের মণিপুরে গিয়ে শেষ হবে। তবে সিলেটে ঝড় বা বাতাস না হলেও হালকা বা ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের মণিপুরে সরে যাবে ঘূর্ণিঝড় মোরা, বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে।

এদিকে, কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় মোরা উপকূলে আঘাত করায় দুই শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বেশকিছু গাছপালা উপড়ে গেছে। সেন্টমার্টিন ও শাহ্পরীর দ্বীপে বহু গাছপালা উপড়ে গেছে, কয়েকশো বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকার লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইউপির সদস্য হাবিবুর রহমান খান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ভোররাত চারটার পর থেকে সেন্টমার্টিন লন্ডভন্ড হতে শুরু করে। ৬টা নাগাদ সেন্টমার্টিনের দুই শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে বেশি রয়েছে কাঁচাঘর। আধা পাকা ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ ঘরের চালা উড়ে গেছে। বহু গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্র, হোটেলসহ বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন, তারা সবাই খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তারা বলছেন, এর আগে কখনো এমন ভয়াবহ ঝড় দেখেননি।

কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জয় জানান, এ জেলায় ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই লাখের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। মোরা কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে আঘাত হেনেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি ও গাছপালার। তবে কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

Beyond, cyclone, 'mora

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকার দুই লক্ষাধিক মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে জেলার ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। গঠন করা হয়েছে ৮৮টি মেডিকেল টিম। প্রস্তুত রাখা হয়েছে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় ৪১৪টি ইউনিটের ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও রেড ক্রিসেন্টের ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি নেয়া হয়েছে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চাঁদপুরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেয়া হয়েছে। এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উপকূলীয় সব জেলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে এলাকায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌ-যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পটুয়াখালীতে ৫ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। সাগর উত্তাল থাকায় অনেক মাছধরা ট্রলার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে পারেনি। বন্দর এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

ভিয়েনা সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ad