বিউটি ধর্ষণ ও হত্যা: প্রধান আসামী বাবুল গ্রেপ্তার

Habiganj girl Murder babul(1)
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের ব্রাক্ষন ডোরা গ্রামের কিশোরী বিউটি  আক্তারকে অপহরণ করে একাধিকবার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামী বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে সিলেটের বিয়ানী বাজার এলাকা থেকে শনিবার (৩১ মার্চ) তাকে গ্রেপ্তার করে।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা ও সিলেটের র‌্যাব-৯ এর পরিচালক মনিরুজ্জামান দৈনিক জাগরণকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বাবুলের শ্বশুর আব্দুল কাদির (৫০), খালা জহুর চাঁন বিবি (৬০) ও খালাত বোন ঝুমা আক্তারকে (২০) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ফরিদ মিয়ার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে (১৪) বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল।

এ ঘটনায় গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন।

এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের ধর্ষণের পর তাকে খুন করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। পরদিন তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া বিউটির শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

বিউটিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১৭ মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইলকে আটক করে।

গত বৃহস্পতিবারই হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়াকে প্রধান করে এ ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়।

ad