মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে: সু চি

Suchi
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতার ভিত্তিতেই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি।

গত বৃহস্পতিবার (৭ জুন) নেপিদোতে  জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশাহি শিমবুনকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নেয়া হবে জানিয়ে সু চি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আইন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তা নিতে আপত্তি নেই আমাদের।

গত কয়েক দশক ধরেই রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন করে আসছে মিয়ানমার সরকার। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তাদের নাগরিকত্ব দেয়নি সরকার। গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন শুরু করে সামরিক বাহিনী। ওই সময় প্রাণ ভয়ে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এছাড়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করে সেনাবাহিনী। জ্বালিয়ে দেয়া হয় তাদের ঘরবাড়ি, হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনাকে জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যা দেয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ। তবে মিয়ানমার শুরু থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলো।  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত অভিযোগকে বহুদিন আমলেই নেয়নি মিয়ানমার। সম্প্রতি  রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার করা যায় কিনা, তা নিয়ে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জানতে চেয়েছেন ওই আদালতেরই একজন প্রসিকিউটর। নিধনযজ্ঞের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সম্প্রতি ৪০০ রোহিঙ্গার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দারস্থ হয়েছেন মানবাধিকার আইনজীবীরা। এরপর নমনীয় হতে শুরু করে মিয়ানমার। জাতিসংঘর সাথে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তারা একটি সমঝোতা চুক্তি করে।

যদিও এর আগে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে তারা বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি করে। ৮ হাজার রোহিঙ্গার নাম প্রস্তাব করা হলেও মাত্র ৬০০ জনকে ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার। তবে এরপরও নানা অযুহাতে তারা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্ব করতে থাকে। এমন অবস্থায় অতীতের ধারাবাহিকতায় আবারও প্রত্যাবাসন চুক্তি মেনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন সুচি।

ad