রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২য় ইউনিটের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Rooppur Power Station, 2nd Unit, Inauguration, Prime Minister,
ad

জাগরণ ডেস্ক: পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় তিনি এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিচভ।

সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। মাত্র সাত মাস আগে ২০১৭ সালের নভেম্বর প্রথম ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই শুরু করা হয়। সে ইউনিটের নির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এবার শুরু হলো দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ। আমি আশা করি, নির্ধারিত সময়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ আমরা সম্পন্ন করতে সমর্থ হবো।

তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের স্বপ্নযাত্রার শুরু ১৯৬১ সালে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাঁর অকাল মৃত্যুতে তা স্তিমিত হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সে উদ্যোগকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সে মহাপরিকল্পনারই অংশ। ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা সংবলিত প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হচ্ছে এ কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১২০০ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেটি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প।

বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন।

দুই ইউনিট মিলিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড ব্যয়ের এই প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরের সময় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরী গবেষণার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার একটি চুক্তি হয়। ওই বছরই অক্টোবরে রূপপুরে হয় ভিত্তিস্থাপন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত সর্বাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ব্যবহৃত তেজষ্ক্রিয় জ্বালানি সরিয়ে নিতেও রাশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

ad