সাভারের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, অভিযানের প্রস্তুতি

Savar, 'militant dorm,' campaign, preparation
ad

জাগরণ ডেস্ক: ঢাকার সাভারের মধ্যগ্যান্ডা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ির ভেতর ঢুকেছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। অভিযানে অংশ নিতে ঢাকা থেকে সেখানে পৌঁছেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সোয়াট টিম। ওই বাড়িতে যেকোনো সময় অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৭ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে গিয়ে পৌঁছায়।

ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট অবস্থান করছে। বাড়ির আশপাশের সব বাড়ি থেকে সবাইকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। তবে কাউকে আতঙ্কিত না হতেও বলা হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় শত গজ দূরে আটকে দেয় তারা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নামাগেন্ডা এলাকায় একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ওই বাড়ির সন্দেহভাজন ভাড়াটিয়ারা শুক্রবার সকালেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির জানালা কেটে জঙ্গি মনিরসহ দু্ই ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে দাবি করে পুলিশ।

ছয় তলা বাড়ি ঘিরে পুলিশের বিশেষ দল একটি ফ্লোর থেকে বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, জিহাদী বই ও ল্যাপটপ জব্দ করে। বাড়িটির দোতলা পর্যন্ত নির্মাণ শেষ হয়েছে। সেখান থেকে এক নারীকে আটক ও দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

এর আগে গতকাল বিকাল ৪টার দিকে নামাগ্যান্ডা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে সিটিটিসি ও ঢাকা জেলা পুলিশ যৌথভাবে একটি পাঁচতলা বাড়ি ঘিরে ফেলে।

সাভার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই বাড়ির দুটি ফ্ল্যাটের একটিতে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতেন মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি’ সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। আরেক ফ্ল্যাটে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতেন অপর এক ‘জঙ্গি’। অভিযানের আগে মনির পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী রিমু আক্তার দুই শিশুপুত্র ও এক মেয়েকে নিয়ে ফ্ল্যাটেই ছিলেন। তাদের আপাতত বাড়ির মালিকের হেফাজতে দেয়া হয়েছে।

নিচতলার এক ভাড়াটে নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দোতলার ফ্ল্যাটের একটিতে পাঁচ–ছয়জন তরুণ থাকতেন। আরেক ফ্ল্যাটে থাকতেন এক যুবক ও দুই নারী। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দুই নারীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। বাসায় জড়ো করে রাখা কার্টন দেখে তিনি এর ভেতরে কী আছে জানতে চান। দুই নারী জানান, তারা কাচের চুড়ির ব্যবসা করেন। নিচতলার ওই ভাড়াটে চুড়ি দেখতে চাইলে তাঁরা খুব বিরক্তি প্রকাশ করে তাকে চলে যেতে বলেন।

ওই ভাড়াটে জানান, বাড়ির মালিক সৌদি আরব প্রবাসী। সিরাজুল নামের এক কেয়ারটেকারের কাছ থেকে ওই লোকজন বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন।

ad