পর্যটন: ঈদে কক্সবাজারে ব্যবসা হবে ৪০০ কোটি টাকা

jagoran- , Eid, Cox Bazar, business, 400 crore taka,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পবিত্র ইদুল আজহা উপলক্ষে ঈদের দিন থেকে পরের এক সপ্তাহে কক্সবাজারে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন।

হোটেল মোটেল, গেষ্ট হাউস মালিক সমিতি সূত্র জানায়, পর্যটক বরণে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটকদের আশানুরূপ সাড়াও মিলেছে।

সাগরের মোহনীয় রুপের সন্ধানে ঈদের টানা পাঁচদিনের ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদচারণায় সরগরম হয়ে ওঠার অপেক্ষায় সমুদ্র নগরী কক্সবাজার। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমন আর আনন্দকে নির্বিঘ্ন পালন করার সুযোগ করে দিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেষ্টহাউজ মালিক সমিতির মুখপাত্র কলিমউল্লাহ বলেন, ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন থেকে পর্যটকের সমাগম ঘটবে কক্সবাজারে। ইতোমধ্যে ২৩ আগষ্ট থেকে ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত কক্সবাজারে থ্রি স্টার ও টু স্টার মানের হোটেল ৮০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। এছাড়া ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত ৫০ শতাংশের উর্ধ্বে বুকিং রয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী রুমি বলেন, তারকা মানের হোটেলগুলোতে ঈদ উপলক্ষে প্রায় অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান বলেন, ২৩ আগষ্ট থেকে ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত প্রতিদিন কক্সবাজারে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই লাখ পর্যটক আসবে। আশা করছি, পর্যটন সেক্টরে ঈদের পরের এক সপ্তাহে কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।

এদিকে, পর্যটক আগমনকে কেন্দ্র করে সমুদ্র সৈকতের ব্যবসায়ীরা দোকানে ঝিনুক ও শামুকের নতুন নতুন পণ্য তুলেছেন। কীটকট ব্যবসায়ী চেয়ারে রঙ করেছেন। নতুন নতুন ছাতা দিয়েছেন। শুঁটকিসহ রকমারি পণ্যের দোকানিরা পর্যটক আকর্ষণে নতুন করে দোকান সাজাচ্ছেন।

পর্যটকদের খাওয়া-দাওয়ার জন্য শহরে প্রায় ২০০ রেস্তোরাঁ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করার কাজ চলছে। যানজট এড়াতে শহরের ঢুকার সড়কগুলোতে বেড়েছে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা। সব জায়গায় এখন নতুনত্বের ছাপ। শুধু সমুদ্র সৈকত নয়, পর্যটক আগমনকে কেন্দ্র করে নবরূপে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, শহরের বৌদ্ধমন্দিরের পাশপাশি রামুর রামকোট, ১০০ ফুট শয্যা বৌদ্ধমূর্তি, ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালির আদিনাথ মন্দির ও সোনাদিয়া সকল পর্যটনকেন্দ্রগুলো অতিথিদের আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম কিবরিয়াহ বলেন, পর্যটকসহ স্থানীয় অতিথিদের নিরাপদে যাতে ভ্রমণ করতে পারে তার জন্য টুয়াকের পক্ষ থেকে নানা উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেছি।

কক্সবাজারের ট্যুরিষ্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, ইনানী ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ছয়জন ইনস্পেক্টরের নেতৃত্বে ১২০ জন ট্যুরিষ্ট পুলিশ ২৪ ঘন্টা কাজ করবে। এছাড়া ছিনতাইসহ পর্যটক হয়রানি রোধে টহল টিম, সাদা পোষাকেও পুলিশ কাজ করবে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের শেষ মুহুর্তে এই উৎসবে সমুদ্রে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকেও খেয়াল রাখবে পুলিশ। ভাটার সময় পর্যটকদের সর্তক করতে মাইকিংসহ মনিটরিং করা হবে। এছাড়া সন্ধ্যার পরে গোসল করার জন্য একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট ঠিক করা হবে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড. একে. এম ইকবাল হোসেন বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাড়ানো হবে মোবাইল টিম, তল্লাশি চৌকিসহ ও সাদা পোশাকের নজরদারি। এছাড়া যেসব হোটেলে বিদেশী মেহমান অবস্থান করছে কিংবা করবে, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পর্যটক হয়রানি রোধে বিচ কর্মীদের পাশাপাশি সমুদ্র সৈকতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুটি মোবাইল টিম কাজ করবে। এছাড়া, আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত টাকা ও ভেজাল খাবার পরিবেশন করলে ব্যবস্থা নেবেন এ আদালত।

ad