বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ণে আরও একটি মাইলফলক

ad

অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হ্যাকিং এর মাধ্যমে ১১০ মিলিয়ন ডলার কেলেঙ্কারির মত ঘটনার মধ্যেও সোমবার,২৫ এপ্রিল ২০১৬, দিন শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ণ ২৯ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

এই বছর মার্চে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১২৮ কোটি ১১ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ১১৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে বেড়েছে ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দুই হাজার ৪৯৫ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি আয় হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের দুই হাজার ২৯০ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের রফতানির চেয়ে আট দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি। একক মাস হিসেবে গত মার্চ মাসে ২৮৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে (সুত্র- বাংলাদেশ ব্যাংক)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এফ এম মোকাম্মেল হকের ধারণা রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং আমদানিতে ধীর গতির কারণে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রিজার্ভ অর্থ । বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আমদানি বিল মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (আকু) পরিশোধের পর তা কমে যায়; পরবর্তীতে তা পুনরায় ২৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে  মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের আকুর বিল পরিশোধ করতে হবে কিন্তু তার আগ পর্যন্ত রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলারের উপরেই অবস্থান করবে।

আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষে বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয় তখন আকুর বিল বাবদ ২০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা ছিল কিন্তু তাতে রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে তাই সেই সময় আকুর বিল পুরোটা পরিশোধ না করে অর্ধেক পরিশোধ করা হয়।

রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এবং এর ফলশ্রুতিতে দাতাদের কাছ থেকে কোন সহায়তা পাওয়া যাবে না। এমন পরিস্থিতে সেই সময় আকুর বিল পুরোটা পরিশোধ না করে অর্ধেক পরিশোধ করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। সেই হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ অর্থ দিয়ে আট মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এবং রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল এবং খাদ্যপণ্যের দাম কমায় আমদানি খরচ কমেছে বলে স্বাভাবিকভাবেই রিজার্ভ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ad