রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিগারেটের উপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব

ad

 

তামাক এবং তামাক জাত পন্যের উপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে অর্থনীতিবিদ সহ সকল স্তরের মানুষ ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এর মতে নিম্ন মানের সিগারেট উপর কর বাড়ানো হলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে বলে মনে করেন । এই হারে রাজস্ব বাড়তে থাকলে প্রতি তিন বছরে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় বাড়বে । এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও বলা হয় গত কয়েক বছর ধরে সিগারেট এর উচ্চ স্তরে কর বাড়ানো হলেও নিম্ন স্তরের উপর কর বাড়ানো হয়নি ।

প্রিমিয়াম ব্রান্ড সিগারেটের তুলনায় কম মূল্যের সিগারেটে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি বেশি । তাই কম মূল্যের প্রতি শলাকায় এক টাকা বাড়ানো হলে প্রিমিয়াম ব্রান্ড এবং কম মূল্যের সিগারেটের মধ্যে পার্থক্য কমে যাবে যার ফলে কম মূল্যের সিগারেট ভোক্তারা প্রিমিয়াম ব্রান্ড চলে আসবে এবং রাজস্ব আয়ও বেড়ে যাবে ।

পিআরআই নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন সিগারেটের নিম্নস্তরের মতো বিড়িতে নজরদারি বাড়ানো হলে প্রতিবছর ২শ কোটি টাকা থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হবে । কম মূল্যের সিগারেটের থেকেও বিড়ির উপর থেকে সব ধরনের সুবিধা তুলে নেওয়ার কথা বলেন । বিড়ি কম মূল্যের সিগারেট থেকেও বেশি ক্ষতিকর । প্রতি বছর বিড়ির প্রতি শলাকার মূল্য এক টাকা করে বাড়ানো হলে বিড়ি একদিন নীল চাষের মতো হয়ে যাবে ।

ধোঁয়া যুক্ত তামাকজাত দ্রব্যের উপর কিছু নিয়মনীতি থাকলেও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রবের ক্ষেত্রে নিয়ম, নীতি, কর কাঠামো, স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা নাই । যার ফলশ্রুতিতে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন । তাই ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যকে একটা কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসে এই বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ।

এছাড়াও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্যের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমি এর উপর বিশেষ জোর দিচ্ছি এবং কমিশনারদের বলা হচ্ছে যাতে সব ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নতুন ভাবে করা হয় ।

উক্ত বাজেট আলোচনায় এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিন, সমাজের বিশিষ্ট জন সহ পিআরআই এর অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।

ad