টানা ৯ দিন বন্ধ ইবির হল, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে চার দিনের ছুটিতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রভোস্ট কাউন্সিল।

কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে প্রতিবাদের ঝড়। সোমবার সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।

রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে, আগামী ৬ অক্টোবর (রবিবার) থেকে শুরু হয়ে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া আগামী ৩, ৪ এবং ১০, ১১ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি এবং ৫ অক্টোবর উপাচার্য প্রদত্ত ছুটি থাকায় আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়। টানা ৯ দিন একাডেমিক-প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার প্রভোস্ট কাউন্সিলের এক জরুরী সভায় হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁরা।

প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকরাম হোসেন মজুমদার বলেন, প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে, হল খোলার পরের দিন (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ১৬টি সেশনের সেমিস্টার ফাইনাল বা কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৩ অক্টোবর এবং ১৪ অক্টোবর যথাক্রমে ৭টি এবং ৪টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ৫ অক্টোবর উপাচার্য নিজ ক্ষমতাবলে ছুটি ঘোষণা করায় ওই দিনের ১১টি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে জানা গেছে।

হল খোলার পরের দিন থেকে পরীক্ষা দেওয়া দূর-দূরন্ত থেকে ছুটে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর বলে দাবি করেছেন অধিকাংশ সচেতন শিক্ষার্থী। একেএম নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক ওয়ালে হল বন্ধের ব্যাপারে গনভোটের আয়োজন করেছেন। শাখা ছাত্র মৈত্রীর নেতা আক্তার হোসেন আজাদ ও নাট্য শিল্পী তন্ময় সেন লেখেন, পূজার ছুটিতে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে এর নিন্দা ও প্রত্যাখান করছি। অধিকাংশ বিভাগের পরীক্ষা চলমান। আশা করি প্রশাসন এমন হটকারী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন।

ছাত্রলীগ নেত্রী মিথিলা ফারজানা লেখেন, এ সিদ্ধান্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থীর চরম ভোগান্তির কারণ। এমন অযৌক্তিক ও উদ্ভট সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে শিক্ষার্থীদের কথা ভাবার দরকার ছিল। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

ছাত্র উপদেষ্টা এবং প্রক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, টানা ৯ দিন ছুটিতে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি প্রতিকূলতায় গেলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন :