কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ প্রহরায় ভবনের কাজ শুরু

Islamic University, Chhatra League, Beating
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: অবশেষে এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর পুলিশ প্রহরায় শুরু হয়েছে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের একাডেমি ভবন নির্মাণের কাজ। 

বুধবার (২৪ মে) থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় এক সপ্তাহ কাজ বন্ধ থাকার পর প্রকল্প এলাকায় সাদা পোশাকধারী পুলিশ প্রহরায় নির্মাণ কাজ আবারও শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের একাডেমি ভবন নির্মাণের কাজ নিয়ে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে গত ১৬ মে ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডাররা প্রকল্প এলাকায় হানা দিয়ে প্রকল্পের ম্যানেজার আব্দুর রহমানসহ কর্মীদের বেধড়ক মারপিট করে। হুমকি প্রদান করে বন্ধ করে দেয় নির্মাণ কাজ। গুরুতর আহত প্রকল্প ম্যানেজার আব্দুর রহমানকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ মার্চ প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের একাডেমি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাউন্ড্রি এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড কার্যাদেশ লাভ করে। একতলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষে হয় দোতলা ভবন নির্মাণ কাজ চলছিল।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে রহমত উল্লাহ অভিযোগ করেন, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই কতিপয় ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডাররা মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে বিপুলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডার প্রকল্প এলাকায় ঢুকে প্রকল্পের ম্যানেজার আব্দুর রহমান, প্রকৌশলীসহ কর্মীদের বেধড়ক মারপিট করে এবং কাজ বন্ধ রাখার হুমকি প্রদান করে।

এ ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওইদিনই নির্মাণ কাজ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। হামলা ও মারপিটের ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরেরদিন ১৭ মে ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডার বিপুল সহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামী করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৯)।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে রহমত উল্লাহ জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দিনে-রাতে ৮-১০টা মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডাররা প্রকল্প এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। মোবাইলে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। এ অবস্থায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকল্প এলাকায় চাঁদা বন্ধ ও নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানিয়ে ইবি উপাচার্য বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কে এম আব্দুস সালাম বলেন, যা ঘটেছে তা সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। নির্বিঘ্নে যাতে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যায় সেজন্য কর্তৃপক্ষ সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তবে এতেও আতঙ্ক কমেনি প্রকল্প এলাকায় কর্মরত প্রকল্প এলাকার প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে নিরাপত্তাসহ সবরকম সহযোগীতা করে যাচ্ছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জান মহম্মদ জানান, প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আসামীরা পলাতক রয়েছে। তবে যেখানেই থাকুক না কেন আসামীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ad