রাবির সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে সনদ নেবে না গ্র্যাজুয়েটরা

rajshahi university
ad

জাগরণ ডেস্ক: আগামী ২৪ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের হাত থেকে গ্র্যাজুয়েটরা সনদ নিতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যদিও শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করেই সমাবর্তন আয়োজনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩-এর ১০(১) ধারায় বলা আছে, রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন। তার অনুপস্থিতিতে উপাচার্য সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সমাবর্তনে উপস্থিত হতে অপারগতা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রীকে সভাপতির দায়িত্ব দেন। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানিয়ে আসছেন।

রাবির শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী অতিথি হিসেবে আসতে পারেন, কিন্তু সভাপতিত্ব করতে পারেন না। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্র্যাজুয়েদের একটি প্রতিনিধিদল রাবি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিতে গেলে তিনি তা গ্রহণ করেননি।

নিবন্ধন করা এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেনামি কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতি যেতে পারেন, কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আসছেন না। এটা আসলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও ব্যর্থতা।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি যেদিন উপস্থিত থাকতে পারেন, এমন দিনেই সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্র্যাজুয়েট বলেন, নির্ধারিত সময়ের ১৫ মাস পরও রাষ্ট্রপতিকে ছাড়াই দায়সারাভাবে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও আমরা সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতিকে পাই না। অথচ এই মাসেও আচার্য যবিপ্রবি’তে এবং এক মাস আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন। সত্যিই আমরা হতাশ।

আরেক গ্র্যাজুয়েট বলেন, রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে না আসায় আমরা সত্যি নিজেদের খুবই অসহায় মনে করছি। এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অসম্মানজনক। আমাদের প্রশাসন কেন রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আসতে পারলেন না সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। এবারের সমাবর্তন আমার কাছে বনভোজন ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, ২৪ মার্চেই দশম সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। আর তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সভাপতিত্ব করবেন। সমাবর্তন বক্তা থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন।

ad