রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম আলোকে অবাঞ্চিত করেছে ছাত্রলীগ

Rokeya University, Prothom Alo, Unwanted, Chattra League,
ad

জাগরণ ডেস্ক: রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রলীগের চার নেতাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিভাবে মাদক ব্যবসায়ী উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে ক্যাম্পাসে প্রথম আলোকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ।

সোমবার (২ এপ্রিল) দুপুরে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এ ঘোষণা দেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোন্নাফ তুষার কিবরিয়া।

সেই সাথে প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রথম আলোকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তুষার কিবরিয়া। অন্যথায় মানহানি মামলা দায়েরসহ ক্যাম্পাসে প্রথম আলোকে চিরতরে বর্জণ করার ঘোষণা দেন তিনি।

জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ‘মাদক ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও’ এই শিরোনামে প্রথম পাতায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। ওই প্রতিবেদনের একাংশে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোন্নাফ তুষার কিবরিয়াকে মাদক ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়।

প্রকাশিত ওই সংবাদের প্রতিবাদে মানববন্ধনে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক পরিকল্পনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বর্তমান কমিটির সভাপতি তুষার কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ফয়সাল আজম ফাইন, কেন্দ্রীয় সদস্য আশিকুন নাহার টুকটুকি ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরান কবীর, পাভেল খান, টগর প্রমুখ।

মানববন্ধনে তুষার কিবরিয়া বলেন, রংপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের কেউ কখনও তাকে নিয়ে এ ধরনের প্রতিবেদন করেনি। ঢাকায় বসে অনুসন্ধান ছাড়াই এক প্রতিবেদক তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বক্তব্যকালে প্রথম আলোর কাছে দুটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে তুষার কিবরিয়া বলেন, প্রতিবেদনে রংপুরে ১৭ জন মাদক ব্যবসায়ীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, তাদের মধ্যে কি কারণে শুধু বেরোবি ছাত্রলীগের নাম উল্লেখ করা হলো আর কেন অন্যদের নাম উল্লেখ করা হলো না?

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে চারটি গোয়েন্দা সংস্থার কথা বলা হয়েছে যে, তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন, এই সংস্থাগুলো কি কি?

তুষার কিবরিয়া অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবির যেমন আওয়ামী লীগের শত্রু, প্রথম আলোও তেমনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শত্রু। তারা বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে ষড়যন্ত্র করেছে। প্রথম আলো বরাবরই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা কিছু মানুষকে ভাসিয়ে দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

একপর্যায়ে তিনি কেঁদে ফেলেন এবং কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রথম আলোকে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মঙ্গলবার দুপুর ২টার প্রমাণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করবো। আর এই ২৪ ঘন্টা আমি শহীদ মুখতার ইলাহী হলের ৫০৬ নং রুমে অবস্থান করবো। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে আমি মানহানি মামলা দায়ের করবো এবং প্রথম আলোকে আজীবনের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করবো। আর এই সময়ের মধ্যে প্রথম আলো ক্ষমা চাইলেও তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।

মানববন্ধনে বক্তব্যকালে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান নোবেল শেখ বলেন, প্রথম আলো এর আগে নবী (সা.) কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিল।

তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের কোনো নেতা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। মুক্তিযুদ্ধ, জাতি ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোন আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করা হলে রক্ত দিয়ে হলেও ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে।

ছাত্রলীগ নেতাদের প্রচার ও তৎপড়তায় মানববন্ধনে সহশ্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন করায় নগরীর মডার্ণ-লালবাগ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ad