শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে জাবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন, বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ad

জাগরণ ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে গতকালের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনগুলোর মানববন্ধনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাড ব্যবহার করে গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে জন সংযোগ অফিস।

যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনকে সমর্থন ও শিক্ষার্থীদের উস্কানী দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে নতুন করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই মানববন্ধন সোমবার অনুষ্ঠিত হলেও আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস থেকে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “গত ২৭ মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ব্যাপক ভাংচুর, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারিদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতি, কর্মচারি সমিতি ও কর্মচারি ইউনিয়ন সম্মিলিতভাবে প্রশাসন ভবনের সামনের রাস্তায় ৫ জুন এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। মানববন্ধন কর্মসূচীতে ব্যাপক সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।”
উক্ত মানববন্ধনে বক্তাগণ বলেন, “দু’জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের বাসভবনে যারা ভাংচুর, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারিদের লাঞ্ছিত করেছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তারা বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসন যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার প্রতি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।”
এমন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এক পক্ষের আন্দোলনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাডে জনসংযোগ অফিস দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে জন সংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক সালাম সাকলাইন বলেন, “এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি ভিসি ম্যামকে দেখিয়েই পাঠানো হয়েছে। যদি ভিসি চান তাহলে এমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো যায়।”
আন্দোলন না করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলায় নাম থাকা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক বলেন, “আমি আন্দোলনের সময় বাড়ি ছিলাম, তারপরেও আমার নাম দেওয়া হয়েছে আসামির তালিকায়। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে যারা মানববন্ধন করছে তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনৈতিকভাবে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভবিষ্যতে কোটা বিরোধী আন্দোলনে ছাত্ররা জড়াতে পারে এমন কথা প্রচার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কৌশলে মাঠে নামানো হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।”
ad