২৭ বছর পর মূল রূপে জাবির ‘অমর একুশে’

After 27 years, the original form, JU, 'Amar Ekushey',
ad

জাবি প্রতিনিধি: দীর্ঘ ২৭ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত ভাস্কর্য ‘অমর একুশে’ মূল নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (১৫ এপ্রিল) মূল নকশা অনুযায়ী ভাস্কর্যের নির্মাণকাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. ফারজানা ইসলাম ‘অমর একুশে’ উদ্বোধন করেন।

এ সময় ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, একুশ আমাদের আবেগের বিষয়। আমরা গর্বের সাথে একুশের চেতনা লালন করি। ভাস্কর্যটির সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় ভালো লাগছে।

তিনি ‘অমর একুশে’র ভাস্কর শিল্পী চৌধুরী জাহানারা পারভীনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, শিল্পী তার মায়া, মমতা ও স্নেহ দিয়ে মূল নকশা অনুযায়ী ভাস্কর্যটি সম্পন্ন করেছেন। তার কাজই তাকে আমাদের মাঝে অমর করে রাখবে।

এরপর তিনি ভাস্কর্যের পাদদেশে একটি পলাশ ফুল গাছ রোপন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক ভাস্কর্যটির নির্মাণ ইতিহাস তুলে ধরেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ, প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন, রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক সহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় শিল্পী চৌধুরী জাহানারা পারভীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে শিল্পী ভাস্কর্যটির অবয়ব অপরিবর্তনীয় রাখার আহ্বান জানান।

ভাস্কর জাহানারা পারভীনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভাস্কর্যটির অভিব্যক্তি হলো- ভাস্কর্যের মধ্যখানে একজন মহিলার প্রতীক একুশের ভাষা আন্দোলনে পুরুষের সাথে নারীদের ত্যাগের স্মৃতি বহন করছে। ওপরের দিকে তাকিয়ে থাকা নারী প্রতিকৃতি সন্তান বা ভাই হারানোর শোকে দুঃখিত নারীদের সাহসের অভিব্যক্তি। এছাড়া ভাস্কর্যটির ৬ সিড়ি ৬ দফাসহ আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ৬টি সালের স্মারক। ভাস্কর্যটির পাদদেশে পলাশ ফুলের গাছ বাংলার ঋতু বৈচিত্রে পলাশ ফুল ফুটিয়ে একুশের আগমনকে জানান দেয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য ড. কাজী সালেহ আহমেদ এ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। যদিও তখন মূল নকশা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়নি। অবশেষে বহু বছরের অপেক্ষার পর ভাস্কর্যটি পেয়েছে তার মূল রূপ, যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যে নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

ad