চামড়া পাচার ঠেকাতে রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির টহল

ভারতে চামড়া পাচার ঠেকাতে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বিজিবি।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ৪০৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছে বিজিবি। সদর দপ্তর থেকে পাঠানো হয়েছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা।

ট্যানারি মালিকদের সাথে আড়তদারদের সমঝোতা না হওয়ায় এ অঞ্চলের মোকামগুলোতে এখনো শুরু হয়নি কোরবানির চামড়ার কেনাবেচা। এ চামড়াগুলো কোনোভাবেই যাতে ভারতে পাচার করতে না পারে ব্যবসায়ীরা এ জন্য সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় রাখা হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে।

জানা যায়, কোরবানির সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে বিক্রি করেন ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। কিন্তু চামড়া বিক্রির টাকা পাননি কয়েক বছর ধরে। ফলে এবার চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের কয়েক দফা বৈঠকের পরও পাওনা পরিশোধ করছেন না ট্যানারি মালিকরা। ফলে রাজশাহী অঞ্চলে চামড়ার সবচেয়ে বড় মোকাম নাটোরে এখনো শুরু হয়নি বেচাকেনা।

নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান আক্কু বলেন, ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু আড়তদাররা তা এখনো পাননি। অনেকেই আড়তে চামড়া নিয়ে এসেছেন। বেচাকেনা কেবল শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো বাজার জমে ওঠেনি।

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ জানান, রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা অন্তত ২০ কোটি টাকা পাবেন ট্যানারি মালিকদের কাছে। বার বার তারা বলছেন টাকা দিয়ে দেবেন। কিন্তু দেয়নি। ফলে এবারের ঈদে বাড়তি পুঁজি দিয়ে চামড়া কিনতে হয়েছে। নাটোরে অনেক ব্যবসায়ীই চামড়া নিয়ে গেছেন। কিন্তু নগদ টাকা ছাড়া চামড়া বিক্রি করতে চাই না আমরা।

বিজিবি ১ ব্যাটেলিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, কোনোভাবেই যাতে চামড়া ভারতে যেতে না পারে এ জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সদর দপ্তর। মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী নদীপথে স্পীডবোর্ডে টহল জোরদার করা হয়েছে। বিওপিগুলোতে সতর্কাবস্থায় বিজিবি সদস্যদের রাখা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :