বকশীগঞ্জে সাজানো মামলায় স্কুল শিক্ষকের হাজতবাস

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সাজানো মামলায় সাইফুল খোকা নামে এক স্কুল শিক্ষক হাজতবাস করছেন। তিনি উপজেলার নীলাখিয়া গ্রামস্থ আব্দুস সালাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

জানা যায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক বিচারপতির গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের অপরাধে নীলাখিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলাম খোকাকে পরিকল্পিত ভাবে মামলায় ফাসাঁনোর অভিযোগ ওঠেছে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে স্কুলশিক্ষক সাইফুল ইসলাম খোকাকে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ জামালপুর আদালতে হাজির করলে সংশ্লিষ্ট বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সরেজমিনে জানা যায়, ঘটনার কয়েক দিন আগে নীলাখিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দারের আত্মীয় ওই মসজিদ কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান ওয়াকারের সাথে নীলাখিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি স্থানীয় আবদুস সালাম নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম খোকার পরিবারের লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়।

পত্যক্ষদর্শী বজলুর রহমানের স্ত্রী মোছা. মাহফুজা, স্থানীয় এমেলি বেগম, সাহিদা বেগম, ফাহিমা বেগমসহ অনেকেই জানান, ওই ঘটনার জেরধরে মঙ্গলবার রাতে হাবিবুর রহমান ওয়াকারের লোকজন আ'লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম খোকার ওপর হামলা করে। এতে খোকাসহ তার ছোট ভাই সালেহ আহম্মেদ ময়না গুরুত্বর আহত হন। এ বিষয়ে ওই রাতেই বকশীগঞ্জ থানায় খোকা বাদী হয়ে হামলার সাথে জড়িত হামিদুর রহমান তারেককে প্রধান আসামি দিয়ে আট জনের নামোল্লেখে লিখিত অভিযোগ করেন।

স্থানীয় আফজাল হোসেন, মনির মিয়া, আজম, হাইবর, আলমগিরসহ অনেকেই জানান, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার সকালে হাবিবুর রহমান ওয়াকারের লোকজন খোকার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ ঘটনা আড়াল করতে হামলাকারীরা উল্টো বিচারপতির বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করে থানায়। এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার আগেই বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দারের ওই আত্মীয়র বাড়ির টিনের বেড়া নিজেরাই ভাংচুর নাটক সাজায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছার মাত্রই আ'লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম খোকার লোকজন বে-আইনিভাবে বিচারপতির বসতবাড়িতে হামলা করেছে মর্মে পুলিশকে অভিযোগ করে প্রতিপক্ষ হাবিবুর রহমান ওয়াকার। এ সময় আ'লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম খোকাকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দারের খালাতো ভাইয়ের ছেলে হাবিবুর রহমান ওয়াকার বাদী হয়ে আ'লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম খোকা (৫৫), তার ছোট ভাই সালেহ আহমেদ ময়না (৪২) ও আশিক (২০) সহ অজ্ঞাত ৫/৬জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারায় মামলা করেছে।

বকশীগঞ্জ থানার ওসি এ.কে.এম মাহবুব আলম মামলা হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মামলার বাদী হাবিবুর রহমান ওয়াকার জানান, আমি সত্য ঘটনার বিষয় নিয়ে মামলা করেছি। এলাকায় আসলে এ বাড়িতেই বিচারপতি মহোদয় থাকেন।

স্থানীরা জানান, বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দারের নীলাখিয়া গ্রামে নিজস্ব কোনো বাড়িঘর নেই। সুতরাং তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাটি অনভিপ্রেত।

ভূক্তভোগি খোকার স্ত্রী রৌনুর জাহান আলো জানান, আমাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা ঢুকে দিয়েছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে না নিয়ে আমার স্বামীকে আটক করেছে।

নীলাখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার জানান, আ'লীগ নেতা খোকাকে পুলিশ আটক করার খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে দেখি ঘটনা পুরোটাই উল্টো। মূলত খোকার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নীলাখিয়া গ্রামে বিচারপতি মহোদয়েয় নিজস্ব কোনো বাড়িঘর নেই। যে বাড়িটি মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে সেটা বিচারপতির আত্মীয়র বাড়ি। উদ্দেশ্যপনোদিত মামলায় আ'লীগ নেতা স্কুলশিক্ষক সাইফুল ইসলাম খোকা জেলহাজতবাস করায় পুরো ঘটনাটি আমাদের জন্য চরম লজ্জ্বার বিষয়।

মন্তব্য লিখুন :