বান্ধবীকে অন্তঃসত্ত্বা করা সেই ইউএনও মহাবিপাকে

বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সেই নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজকে গ্রহণ করেনি সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সম্প্রতি বিভিন্ন অনিয়ম ও নারী ঘটিত নানা অভিযোগ ওঠায় তাকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আইসিটি বিভাগের সহকারী নিয়ন্ত্রক হিসেবে সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) যোগ দিতে গেলে গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

আইসিটি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাহিরপুরের সাবেক ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজকে এখানে (আইসিটি বিভাগ) বদলি করা হয়। তবে আমরা তাকে এখনও রিসিভ করিনি এবং করাও হবে না। তিনি গতকাল (রোববার, ৮ সেপ্টেম্বর) এসেছিলেন। দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখেছি কিন্তু আমরা তাকে গ্রহণ করবো না। এর জন্য আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবো। বাকিটা তারা বুঝবেন।

উল্লেখ্য, তাহিরপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে ওই তরুণীকে না জানিয়ে তার নামে বিভিন্ন দলিল দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ও লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

এ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আসিফকে আইসিটি বিভাগের কন্ট্রোলার অব ডিজিটাল সার্টিফাইং অথরিটি বিভাগে সহকারী নিয়ন্ত্রক পদে বদলি করা হয়। নতুন কর্মস্থলে রোববারের মধ্যে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

ওই সময়ের মধ্যে যোগ না দিলে ‘স্ট্যান্ডরিলিজ’ ((তাৎক্ষণিক অব্যাহতি) হয়ে যাবেন তিনি।

জানা যায়, আসিফ ইমতিয়াজের পূর্বে বিয়ে করা স্ত্রীর সাথে ডির্ভোস হয়। কিন্তু শ্বশুর পেশাদার উকিল হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ বিলম্বিত হচ্ছিল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এডিসি (এলএ) আসিফ ইমতিয়াজের (পরিচিতি নং-১৬৭৫৩)। কিন্তু নতুন বান্ধবীর সাথে সংসার করার তর সইছিল না তার। শেষ পর্যন্ত পৃথক বাসা নিয়ে সংসার শুরু করেন বিয়ের আগেই। অসাবধানতাবশত পেটে চলে আসে সন্তান। অভিযোগ ওঠায় চট্টগ্রাম থেকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) হিসেবে বদলি করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই নারীর লিখিত অভিযোগে বলেন, বিগত বছরের এপ্রিল মাসে এক বান্ধবীর মাধ্যমে আসিফ ইমতিয়াজের সাথে পরিচয় হয়। পরে জানতে পারি তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। সেই সূত্র ধরে কয়েকদিন ফোনে কথা হয়। এরপর এপ্রিল মাসে তার সাথে ঢাকায় এসে সাক্ষাৎ করি। প্রথম সাক্ষাতেই আমাদের বিয়ে নিয়ে কথা হয়। এরপর মে মাসের প্রথম সপ্তাহ সে মিরপুর-৬ নম্বরে একটি বাসা ভাড়া নেয়। বাসা নেয়ার খবর দেয়ার পর আমি ঢাকায় আসি। ওই বাসায় তার বোন-ভগ্নিপতির সাথে কথা হয়। তাদের সামনেই মে মাসের মধ্যে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন আসিফ।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমি গর্ভবতী হই। এটা তাকে জানানোর পরই আমার সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। ওই শিশু নষ্ট করার জন্য প্রচন্ড চাপ দেয়। এক সপ্তাহ পরই সে আমাকে ফেসবুকসহ সব যোগাযোগ মাধ্যমে ব্লক করে দেয়। তার সাথে আমি কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। নানাভাবে তাকে মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেও পারিনি। পরে ডিসির সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনা বলা পর তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন এবং একজন এডিসিকে দায়িত্ব দেন।

মন্তব্য লিখুন :