রাজীবপুরে স্কুল ঘর পোড়ানোর ঘটনায় থানায় অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়ামারী নয়াপাড়া গ্রামে স্কুল ঘর আগুনে পোড়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে রাজীবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ বছর থেকে 'বালিয়ামারী মুক্তাঞ্চল বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়' নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছিলো ওই এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার জন্য। ১৭০ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হত। গত বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধার দিকে বিদ্যালয়টির টিনশেড ঘরটি হঠাৎ আগুনে পুড়ে যায়। এতে আসবাবপত্র সহ স্কুলের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণগুলো পুড়ে ছাই হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই স্কুল সংলগ্ন নয়াপাড়া গ্রামের  শাহাদাত হোসেন (৪৬) ও তার স্ত্রী শাপলা বেগমকে সন্দেহ করে স্কুল পোড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

থানায় লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ওই স্বামী স্ত্রী'র সাথে স্কুল নির্মানের সময় কথা-কাটাকাটি হয়েছিলো আমাদের স্কুলের শিক্ষকদের। স্কুলে ক্লাস চালু থাকলে বাচ্চারা জোরে কথা বললে এবং খেলাধুলা করার সময় চিৎকার করলে ওই দম্পতি গালিগালাজ করত। বিভিন্ন সময় তারা স্কুলের ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছিলো। আমরা সন্দেহ করছি সেদিন সবার অজান্তে তারাই আমাদের স্কুলটি আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

স্কুলে আগুন দেওয়ার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ বিষয়ে  জানতে চাইলে শাহাদত ও তার স্ত্রী শাপলা বেগম বলেন, আমরা স্কুলে আগুন দেই নাই। শত্রুতা কইরা আমাগোরে নাম দিছে।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে,রাজীবপুরে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাঅনুরাগী ব্যাক্তিদের উদ্যোগে এলাকার প্রান্তিক ও দিনমজুর পরিবারের শিশুদের শিক্ষা বিস্তারে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় রাজীবপুর সদর ইউনিয়নের বালিয়ামারী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় 'বালিয়ামারী মুক্তাঞ্চল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'। বিদ্যালয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতিক্রমে পাঠদানের অনুমতি পায়। গত কয়েক বছর পাঠদানও হয়েছে স্কুলটিতে।