বগুড়ায় যুবদল নেতার নির্যাতনের শিকার সেই প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

বগুড়ার শাজাহানপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে প্রভাবশালী এক যুবদল নেতার মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকারে পা হারানো মানসিক প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসান ওরফে রাজু (৩০) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।


বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মানসিক প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসান উপজেলার শাহনগর বিলায়েতপাড়া গ্রামের দিনমজুর আজাহার আলীর পুত্র।


জানা যায়, মেহেদী হাসান প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘর তৈরী করে বসবাস করতো। গত ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টায় মেহেদী হাসান দেখতে পান, তার ঝুপড়িঘরে বসে শাহনগর ডাক্তারপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য একাধিক নাশকতা মামলার আসামি মারুফ হোসেনসহ ৪-৫ জন মিলে আড্ডা দিচ্ছেন। তখন তাদেরকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললে যুবদল নেতা মারুফ হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরের দিন ২১ আগস্ট বেলা ৩টায় যুবদল নেতা মারুফ হোসেন তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে মেহেদী হাসানকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন। নির্যতনের শিকার মেহেদী হাসানের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের মাংসপেশি নষ্ট হয় এবং হাড় ভেঙে যায়। 


গুরুতর আহত মানসিক প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসানকে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচার করার পরও পায়ের মাংসপেশিতে পচন ধরে এবং তা হাঁড় থেকে মাংস খসে পড়তে থাকে। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ৫ অক্টোবর বিকেলে অস্ত্রোপচার করে হাটুর উপর পর্যন্ত কেটে ফেলার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ১২টায় তার মৃত্যু হয়।


এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মারুফ হোসেন বর্তমানে কারাগারে আছেন।


শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রথমে মারপিটের মামলা হয়েছে। এখন হত্যা মামলা হবে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।