কুষ্টিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মারধর

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ছেলের বিরুদ্ধে 'বিদ্রোহী' প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত বিদ্রোহী' প্রার্থী  হাসপাতালে রয়েছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খাস মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের 'বিদ্রোহী' চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা কামালকে মারধর করা হয়েছে।

শনিবার (২০নভেম্বর) সকাল নয়টার দিকে ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বাজারের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের স্বীকার আহত আওয়ামী লীগের ওই 'বিদ্রোহী' চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

দলীয় নেতা–কর্মীরা বলেন, ২৮ নভেম্বর এ ইউপিতে নির্বাচন হবে। ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সর্দ্দার হাশিম উদ্দিন। এদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল (ঢোল প্রতীক)। তবে প্রার্থী হওয়ার পর দল থেকে তাঁকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোস্তফা বলেন, তিনি শনিবার সকালে কৈপাল এলাকায় প্রাতভ্রমণে যান। সাড়ে আটটার দিকে নৌকার প্রার্থী হাশিমের ছেলে মালেকসহ কয়েকজন সেখানে হাজির হন। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁরা চলে যান। তখন তিনি তাঁর ছেলেকে ফোন করেন। পরে মোটরসাইকেলে হোসেনাবাদ এলাকায় যান। সেখানে পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর মালেক ২০-২৫ জনকে নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে হকিস্টিকসহ ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তাঁর ছেলে ও তাঁর ছেলের সঙ্গে থাকা লোকজনও আহত হন। তাঁদের মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। এ ব্যাপারে তিনি থানায় অভিযোগ দেন।

মোস্তফা আরও বলেন, 'আমাকে পিঠে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে। নাক ফেটে গেছে। এখনো রক্ত ঝরছে। পুরো শরীরে ব্যথা। নির্বাচন করার কোনো পরিবেশ নেই। ভয়ভীতি আর আতঙ্কে দিন কাটছে। সাধারণ ভোটাররা খুবই আতঙ্কে আছে। এভাবে ভোট হয় না।'

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সর্দ্দার হাশিম উদ্দিন বলেন, তাঁর ছেলে কারও ওপর হামলা চালাননি। মোস্তফা কামালের লোকজনই হোসেনাবাদ বাজারে তাঁর সমর্থক ও ছেলের ওপর হামলা করেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন বলেন, উভয় পক্ষের লোকজন হোসেনাবাদ বাজারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন। তিনি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় মালেকের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে মোস্তফার পক্ষের কেউ আসেননি।