লালমনিরহাটে ইউপি সদস্যের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায়  নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যের নির্যাতনে আনোয়ারুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। 


বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাতে আনোয়ারুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিগঞ্জ থানার ওসি গোলাম রসূল। এর আগে  বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজ্জাম্মেল হকের বাড়ির পাশে ঝুপড়ি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য পাঠানো হয়।


এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 


অভিযুক্তরা হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত সদস্য মোজাম্মেল হক (৪৬), তার ছোট ভাই মোশারফ হোসেন ভুট্টু (৩০) ও ইউপি সদস্যের ছেলে সুজন (২৪) সহ ৫ জন। 


জানা গেছে, আনোয়ারুল কাছে পাওনা টাকা চাওয়ার জন্য নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক, তার ভাই ও ছেলে আনোয়ারুলের বাড়িতে যান। টাকা না পেয়ে তারা আনোয়ারুলকে ধরে নিয়ে আসে। তিন দিন আটকে রেখে তার ওপর চলে নির্যাতন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে প্রতিবেশী কুদ্দুসের ছেলে রোকনুজ্জামান এগিয়ে এলে তাকেও আটকে রেখে নির্যাতন করে। নির্যাতন সইতে না পেয়ে আনোয়ারুল চিৎকার করলে এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক তার বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দেন। পরে আত্মীয়-স্বজনরা খবর পেয়ে ওই ইউপি সদস্যের বাড়িতে যান। কিন্তু ইউপি সদস্য তাদের কোন কথা না শুনে লাঠি দিয়ে মারার জন্য ধাওয়া করে। পরে উপায় না পেয়ে তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। খবর পেয়ে পুলিশ আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 


ইউপি সদস্য মোজ্জাম্মেল হকের বাড়িতে গিয়ে দুজনকে আটকে রাখার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা অস্বীকার করেন। এর কিছুক্ষণ পরই এলাকায় দুজন চোর আটক আছেন এমন খবর ছড়িয়ে দেন ইউপি সদস্য মোজ্জাম্মেল হক। 


এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম রসুল বলেন, দায়ের করা মামলার মধ্যে প্রধান আসামি ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হকসহ আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।