রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৯ বছর

৯ বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বকে কাপিয়ে দিয়েছিলো সাভারের রানা প্লাজা ধ্বস। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডি কাঁদিয়েছিলো দেশের সর্বস্তরের মানুষকে।


২০১৩ সালের এই দিনে সকাল প্রায় নয়টার দিকে রানাপ্লাজার নয়তলা ভবন ধ্বসে নিহত হন ১১৭৫ জন পোশাক শ্রমিক। এই ট্র্যাজেডিতে প্রায় আড়াই হাজার আহত শ্রমিক আজও সেই ভয়াল দিনের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন।


রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৫৩ শতাংশ। শারীরিক অক্ষমতার কারণে এদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন ১০ শতাংশ। অবশিষ্ট ৪৭ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানে নিযুক্ত রয়েছেন। আহত শ্রমিকদের মধ্যে ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন করার প্রবণতা দেখা গেছে।


রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৯ বছরে বেঁচে যাওয়া ২০০ শ্রমিকের ওপর জরিপ চালিয়েছে একশনএইড বাংলাদেশ। এই জরিপে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


এতে বলা হয়েছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৫৬.৫ শতাংশ শ্রমিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। যা গত বছর ছিল ১৪ শতাংশ। তারা কোমর, মাথা, হাত-পা এবং পিঠে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। আগের বছরগুলোতে এমন জরিপে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখা গেলেও, এবার অবনতির চিত্র উঠে এসেছে।


এই দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য আজ সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারি শ্রমিক সংগঠন, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য এবং আহত শ্রমিকরা রানাপ্লাজার অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। অন্যান্য বছরের মত দেশি-বিদেশি দর্শনাথী, শ্রমিক সংগঠন ও সর্বস্তরের লোকজনও শ্রদ্ধা জানাবেন সেদিনের সেই ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে। নিহত শ্রমিকদের স্মরণে আজ সকালে রানাপ্লাজার অস্থায়ী বেদীতে সরকারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে।


এ সময় নিহতদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি সকল শ্রেডবর মানুষের উপস্থিত হয় এই বেদীতে।


এছাড়াও সন্ধ্যায় রানাপ্লাজার সামনের অস্থায়ী বেদীতে মোমবাতি প্রজ্জলন করেন বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় অনেকেই রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার দ্রুত বিচারের দাবি জানান।