বন্যা পরবর্তী সময়ে পানি বিশুদ্ধকরণ কীভাবে জানুন

বন্যায় পানিবন্দি মানুষের অস্থায়ী দুর্ভোগ পোহাতে হয় দুই সময়। বন্যায় পানিবন্দি থাকার সময় প্রথম পর্যায়ের দুর্ভোগ। আর বন্যার পানি নামার পর শুরু হয় দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্ভোগ। এ সময়ে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। সঙ্গে আছে খাবার সংকট, ঘরবাড়ি মেরামত সংকট, সেনিটেশন সংকট। যে কারণে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় মারাত্মকভাবে।


এখনো পুরোপুরিভাবে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বন্যার চাইতেও কঠিন হয়ে দেখা দেয় বন্যা পরবর্তী সময় মোকাবিলা করা। মূলত বন্যা পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে। তাই এ সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খাবার পানি বিশুদ্ধকরণের নানা উপায় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।


সিলেটের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সুপেয় পানির উৎস্য প্রধানত দুটো। গভীর নলকূপ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা খাবার পানি। কিন্তু এই বন্যায় হাজার হাজার নলকূপ, পানি সরবরাহের পাইপলাইন ও শৌচাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় সবার আগে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।


শুধু সিলেটই নয়, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা সব জেলাতেই সুপেয় পানির সংকট। আবার মধ্যাঞ্চলেও বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধকরণের উপায় আগেই জানা প্রয়োজন।


তাই এ সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যেসব উপায়ে পানি বিশুদ্ধকরণ করা যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করছি।


★ পানি ফুটানো


বন্যার পর অবশ্যই পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। পানি ফুটানোর নিয়ম হল পানি ফুটতে শুরু করলে ১৫-২০ মিনিট ফুটাতে হবে। কেননা, পানি ফুটালে এতে থাকা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবীসহ রোগ-সৃষ্টিকারী জীবাণু মারা যায়।


★ রাসায়নিক জীবাণুনাশক ব্যবহার


বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসলে খাবার পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য পানি ফুটাতে হয়। অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে তাও সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে রাসায়নিক জীবাণুনাশক যেমন গন্ধহীন ক্লোরিন ব্লিচ, আয়োডিন বা ক্লোরিন ডাই অক্সাইড ট্যাবলেট ব্যবহার করে অল্প পরিমাণ পানি পান করার জন্য নিরাপদ করতে পারেন।


★ ফিল্টারের মাধ্যমে পরিশোধন


কিছু পোর্টেবল পানির ফিল্টার আছে, যা খাবার পানি থেকে রোগ সৃষ্টিকারী পরজীবী দূর করতে পারে। ফিল্টার করার পরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার ধ্বংস নিশ্চিত করতে ফিল্টার করা পানিতে আয়োডিন, ক্লোরিন বা ক্লোরিন ডাই অক্সাইডের মতো জীবাণুনাশক যোগ করা যেতে পারে।


এছাড়া বন্যার পানি থেকে জেগে ওঠা নলকূপ জীবাণুমুক্ত করার জন্য জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি পরামর্শ দিয়েছে। আটটি ধাপের এ পরামর্শ হচ্ছে-


ধাপ ১: ১২ থেকে ১৫ লিটার পানি একটি বালতিতে নিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ভালোভাবে মেশাতে হবে।


ধাপ ২: একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মিশ্রণটি ছেঁকে নিতে হবে। অথবা মিশ্রণটি স্থির না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


ধাপ ৩: নলকূপের পাম্পের হাতল ও প্লাঞ্জার রড পাম্প থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে।


ধাপ ৪: মিশ্রণের অর্ধেক পানি পাম্পের ভিতর ঢালতে হবে।


ধাপ ৫: হাতল ও প্লাঞ্জার রড ভালোভাবে পরিষ্কার করে ময়লা ও কাদা সরিয়ে ফেলতে হবে।


ধাপ ৬: হাতল ও প্লাঞ্জার রড আবার স্থাপন করতে হবে। এবং ঘোলা পানি দূর না হওয়া পর্যন্ত পাম্প করে যেতে হবে।


ধাপ ৭: পাম্প করে পর্যাপ্ত পানি পাওয়ার পর অবশিষ্ট মিশ্রণ পাম্পের ভিতর ঢালতে হবে এবং ব্লিচিং পাউডার বা ক্লোরিনের গন্ধ থাকা পর্যন্ত পাম্প করতে হবে।


ধাপ ৮: নলকূপের আশেপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।


পানি বিশুদ্ধকরণের উপায় ও নলকূপগুলো থেকে বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার ধাপসমূহ অবলম্বন করে বন্যার্ত সিলেটবাসী অনেকাংশেই উপকৃত হতে পারেন। তাতে অন্তত খাবার পানির সংকট কিছুটা হলেও কাটবে।


সূত্র: ইউএনবি