আমাকে বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করার সুযোগ দেওয়া হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

sheikh hasina
ad

জাগরণ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এমপি এ কে এম শাহজাহান কামালের এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে ফিরে ধানমান্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে গেলে আমাকে ওই বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি। বাবা-মা, ভাইয়ের জন্য একটু দোয়া করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বুধবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এমপি প্রশ্ন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় প্রবেশে কোনও ধরনের বাধা পেয়েছিলেন কিনা।

দুই বোনের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, খুনি মোশতাক ও তার দোসর জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্ট নৃসংসভাবে আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করে। বিদেশ থাকায় বেঁচে যাই আমরা দুই বোন। এরপর শুরু হয় ক্ষমতা দখলের পালা। জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। জোর করে আমাদের আটকে রাখা হয় বিদেশে। এমনকি রেহানার পাসপোর্টও জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫-১৯৮১ সাল পর্যন্ত আমাদের বিদেশেই থাকতে হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করার পর দেশের মানুষের সহযোগীতায় ১৯৮১ সালের ১৭ মে আমি দেশে ফিরে আসি। ওই সময়ও আমাকে আটকানোর চেষ্টা করেন জিয়াউর রহমান। তবে দেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগ কর্মী বাহিনীর কাচে তিনি ব্যর্থ হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরে ধানমান্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে গেলে পুলিশি প্রহরা ও গেটে তালা দিয়ে আমার পথ রুদ্ধ করা হয়। আমি রাস্তার উপরই বসে পড়ি এবং আমাদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া পড়ি।

বিএনপির ভিশন-২০৩০ নিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি তাদের ভিশন ২০৩০-এ যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে, তার অধিকাংশই বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে পূরণ করেছে। আগামী অর্থবছরে এর বাকি কাজগুলোও শেষ করা হবে।

এ সময় বিএনপির রাজনীতির সমালোচনায় তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলা, সংসদ সদস্য হত্যাসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কাজে যারা পারদর্শী। তারা আবার জনগণকে কী আশার বাণী শোনাবে? বিএনপি তাদের শাসনামলে পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনাও গ্রহণ করেনি। তারা দুতিন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল।

ad