ইতিহাস রচনা করতে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ

practice before semifinal
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: এজবাস্টনে আজ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত এবং টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মত সেমিফাইনালে যাওয়া বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলোকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। উপভোগের মন্ত্রে ফাইনালে গিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরির লক্ষ্য এখন টাইগারদের।

শনিবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় এজবাস্টনে শুরু হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কোন চাপ দল নিচ্ছে না জানিয়ে বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছি। দারুণ একটা অনূভূতি এটা। আমার কাছে মনে হচ্ছে খেলোয়াড়রা খুবই উজ্জীবিত, এই ধরণের একটা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলছি আমরা। এই ম্যাচটি অন্য আর-১০টা ম্যাচের মতো খেলতে পারলে আমাদের জন্যই ভাল হবে। নির্ভার হয়ে খেলতে পারলেই সাফল্য পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ এমন এক অর্জনে রোমাঞ্চিত। এই একটি ম্যাচ জিতলেই টাইগাররা পৌঁছে যাবে বৈশ্বিক কোন টুর্নামেন্টের প্রথম ফাইনালে। বাংলাদেশ-ভারতের লড়াই গত দু’বছর যতটা উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যতটা রোমাঞ্চ, বিতর্কের শাখা-প্রশাখায় যত টান পড়েছে, তাতে এই দুই দেশের প্রতিটি লড়াই এখন ‘হাই-ভোল্টেজ।’ আর এটি তো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল।

এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে থাকা একাদশ অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে কন্ডিশন দেখেই শেষ মুহূর্তে দল ঘোষণা করা হবে বলে জানাগেছে।

কোচ হাথুরুসিংহে সেমিফাইনাল নিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশর জন্য এটি বড় ম্যাচ নয়, বড় সুযোগ। সবার মুখে মুখেই এই কথা। সুযোগটা অনেক বড় কিছু্র। ইতিহাসের নতুন দিগন্তে পা রাখার পর সেটির সীমানা আরও বাড়িয়ে নেওয়া। প্রথম সেমিফাইনালের হাত ধরেই প্রথমবার ফাইনালে যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ।

আজ সেমিফাইনাল জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু, পরের ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াকু ৯৫ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস। কিউইদের বিপক্ষে যদিও শূন্যহাতে ফিরেছেন, তবে সেমিতে প্রিয় প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে এই বাঁহাতি আরেকবার জ্বলে উঠলেই হিসাব সহজ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের জন্য।

তবে বাকি ব্যাটসম্যান আর বোলারদেরও দায়িত্ব নিতে হবে আজকের ম্যাচ জিততে হলে। বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেলে যে কাউকে হাল ধরতে হবে। দৃঢ় মানসিকতা ধরে রাখতে হবে।

চাপের মুখে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ার দিন যে ক্রমে শেষ হয়ে আসছে তার প্রমাণ রেখেছেন সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সুইং ও গতিতে ভরপুর ভারতীয় পেসারদের বিপক্ষে লাল-সবুজদের জন্য দারুণ এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে কিউইদের বিপক্ষে তাদের ২২৪ রানের মহাকাব্যিক জুটি।

নিজেদের দিনে যেকোন প্রতিপক্ষকে হারানোর অভ্যাস তো টাইগারদের আগে থেকেই আছে। এই ভারতের বিপক্ষে ২০০৭ বিশ্বকাপে তাদের হারিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। দলটা এখন আরো পরিপক্ব, সাকিব-মাশরাফিরাও অভিজ্ঞ। তারা দিনটি নিজেদের করে নিতে পারা এখন নিয়মিত বিষয়। ডার্ক হর্স তকমা নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে আসা বাংলাদেশ তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেই ফেলেছে সেমিতে উঠে। এখন নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার পালা।

চাপ যে আজ ভারতের ওপরেই থাকছে তা জানিয়ে মাশরাফি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আমাদের চেয়ে ভারতই বেশি চাপে থাকবে। কারণ তাদের কোটি কোটি দর্শক রয়েছে। আর দেশটির মানুষ ক্রিকেটকে অনেক বেশি ভালোবাসে।

তাই বলাই যায় আজ বাঘেরা ফুরফুরে মেজাজে জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত হয়েই মাঠে নামবে। ২০০৭ বিশ্বকাপে মাঞ্জারুল রানাকে হারানোর বেদনা নিয়ে কালো ব্যাজ পরে শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে জয় ছিনিয়ে এনেছিল। আজ লাল সবুজের দল নামবে কালো ব্যাজ পরে পাহাড় ধসে নিহতদের স্মরণে। আজও শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে তাদের কাছে জয় প্রত্যাশা করছে দেশবাসী।

ad