কোটা ব্যবস্থাই থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

pm in perlament quota.
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলনকারীরা বারবার আন্দোলন করবে। তাতে সাধারণ মানুষ বারবার কষ্ট করবে, রাস্তা অবরোধ চলতে থাকবে, সময় নষ্ট হবে, শিক্ষার্থীদের সেশন জট বাড়বে। আমি দলের সেক্রেটারিকে (ওবায়দুল কাদেরকে) দায়িত্ব দিলাম। কিন্তু তারা সময় দিল না। বারবার দাবি আন্দোলনের ঝামেলার দরকার নাই, কোটা ব্যবস্থাই বাদ।

বুধবার (১১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব বলেন।

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন করে তারা লেখাপড়া বন্ধ করে রাস্তা, বন্ধ করে বসে আছে। মেয়েরা রাত ১টার সময় হলের গেট ভেঙে রাস্তায় নামল। মৃত্যুর গুজবে রাস্তায় নামল। অঘটন হলে দায় কে নিত? ভিসির বাড়িতে আক্রমণ হলো। কখনও আগে এমন ঘটনা ঘটেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওবায়দুল কাদেরের সাথে আলোচনার পর আন্দোলন স্থগিত অনেকে মানল, অনেকে মানল না, তারা থেকে গেল। আলোচনার মধ্যে আন্দোলনের যৌক্তিকতা কি? চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার সব পুড়িয়ে তছনছ করা হলো। তারা ধ্বংসাত্মক কাজ করল কেন? মেয়েরা কেন বেরিয়ে আসল। নানককে পাঠালাম। সে বলল এমন করবা না। তাদের ফিরে যাওয়ার কথা বলা হল। তারা শবাই রাস্তায় নেমে গেছে।

তিনি বলেন, সবাই লেখা পড়া বন্ধ করে রাস্তায় নামল। সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ল। বারবার এমন ঝামেলায় কারোর পড়ার দরকার নাই। কোটা সংস্কারে বারবার আন্দোলনের ঝামেলা দরকার নাই। কোটা তাই থাকার দরকার নাই।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা বেধাবী, তারাই বিসিএস দেয়। রিটেনে সবাইকে পাশ করতে হয়। তাহলে কিসের আপত্তি? কোটা না থাকলে মেধাবীদের দিয়ে তা ভরাট করা হয় তারা কি তা জানে না? কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার এই সুরে কথা বলছে। তারা দেখে নাই ওইভাবেই। যারা কোটায় যায় তারাও মেধাবী। যার মানে দাঁড়ায় সুযোগ পাওয়া ১০০% মেধাবী।

তিনি আরও বলেন, ভিসির বাড়িতে আগে কখনও এমন হামলা হয়নি। পাকিস্তানের কায়দায় হামলা, ভাঙচুর, লুট গয়না, টাকা লুট করা হয়েছে। ভিসির পরিবার ভয়ে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিল। সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়েছে, রেকর্ডার সরিয়েছে। তারা ছাত্র হওয়ার উপযুক্ত না। আমি তাদের ছাত্র বলে মনে করি না। এই জঘন্য ঘটনার, তীব্র নিন্দা জানাই।

সংসদ প্রধান বলেন, আমরা কি বসে আছি নাকি। আমাদের পার্টির সেক্রেটারি তাদের সাথে বসেছিল। আমি ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিলাম যাদের সাথে বসার তাদের সাথে বসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তারা আন্দোলন চালিয়েই গেল।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ১০% কোটা এখন মহিলা। তারাও নেমেছে রাস্তায়। তারা কোটা চায় না। আমি নারী হয়ে খুশি। কোটা পদ্ধতি দরকার নাই। প্রতিবন্ধী, উপজাতিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা যাবে। কোনো শ্রেণি বঞ্ছিত না হওয়ার জন্য কোটা ছিল।

ad