জলবায়ু পরিবর্তনের ত্রিমুখী হুমকির মুখে গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য

ad
স্ক্রিপ্স বিজ্ঞানী লিসা লেভিন ও কার্লোস নেইরা। কৃতজ্ঞতাঃ স্ক্রিপ্স ওশেনোগ্রাফি
স্ক্রিপ্স বিজ্ঞানী লিসা লেভিন ও কার্লোস নেইরা। কৃতজ্ঞতাঃ স্ক্রিপ্স ওশেনোগ্রাফি

জাগরণ ডেস্কঃ নতুন এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি হুমকির মাত্রা মহাসাগরগুলোর সব জায়গায় সমান নয়। জলভাগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের এই তিনটি হুমকি হলোঃ পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অক্সিজেন স্বল্পতা, PH Level নিচে নেমে যাওয়া।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, স্যান ডিয়েগোর Scripps Institution of Oceanography এর একদল গবেষক এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেন। তারা তাপমাত্রা, অক্সিজেন ও PH এর প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সান ফ্রান্সিস্কো পর্যন্ত জীব বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনকে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত কার্বন-ডাইওক্সাইড থেকে উদ্ভূত একটি একক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে হয়। তবে সামুদ্রিক জীবনের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের একাধিক ফলাফল যেমন মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি, অম্লীয়করণ, স্বল্প অক্সিজেন মাত্রা ইত্যাদির সামগ্রিক প্রভাব বিদ্যমান। গভীর মহাসাগর, যা ভূ-পৃষ্ঠের শতকরা ৬০ ভাগের বেশি জায়গা জুড়ে আছে, একটি জীববৈচিত্র্যের হটস্পট যা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছে।

গত ২৭এপ্রিল, বুধবারে প্রকাশিত Proceedings of the Royal Society শীর্ষক আন্তর্জাতিক জার্নালে সামুদ্রিক জীবসম্প্রদায়ের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি হুমকির প্রভাবের উপর ভিত্তি করে গবেষণাপ্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

“এই প্রভাবকগুলো মাঝে মাঝে জীববৈচিত্র্য ও বাস্তসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়”, বলেন স্ক্রিপ্স জৈব ওশেনোগ্রাফার লিসা লেভিন, এই গবেষণার উর্ধ্বতন লেখক, “তবুও, প্রশ্ন রয়েছে কিভাবে জীবসম্প্রদায় এর সাথে অভিযোজিত হবে বা আদৈ হতে পারবে কিনা এবং কোনো প্রভাবকটি প্রাথমিক চালক হিসেবে কাজ করে।”

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের এই তিনটি হুমকি মোকাবেলার লক্ষে গবেষকরা ইতিমধ্যে প্রকাশিত তথ্যাবলি পর্যালোচনা করেছেন, পাশাপাশি মহাদেশীয় সীমানার পাশের গভীর সামুদ্রিক অঞ্চলের তলদেশের জীবসমূহ সম্বন্ধে নতুন তথ্য যোগাড় করেছেন।

গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, প্রতিটি মহাসাগরীয় বেসিনের জীবসম্প্রদায়ের জলবায়ুর পরিবর্তন সহ্য করার নিজস্ব মাপকাঠি ও মাত্রা আছে। তারা দেখেছেন, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জীবন অক্সিজেন লেভেলের স্বল্পতার প্রতি উচ্চ সংবেদনশীল। অপরদিকে ভারত মহাসাগরের জীব বৈচিত্র্য কার্বন-ডাইঅক্সাইড লেভেলের গুরুত্ব তুলনামূলক বেশি। মহাসাগরগুলোতে অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে খুব দ্রুত। অনুমান করা হচ্ছে, এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় জীববৈচিত্র্যে।

“বৈশ্বিক পরিবর্তন অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। আর এর মাত্রাটি এত বেশি যে ল্যাবরেটরিতে বসে তা পর্যবেক্ষণ করা আর সম্ভব হচ্ছে না”, বলছেন এরিক স্পারলিং, Stanford’s School of Earth, Energy & Environmental Sciences এর সহকারী অধ্যাপক, এই গবেষণার প্রধান লেখক।

তিনি আরও বলেন, “একভাবে চিন্তা করলে, প্রকৃতি ইতিমধ্যে মহাদেশীয় মার্জিনে এই পরীক্ষাগুলো করে ফেলেছে, যেখানে সূক্ষ্য প্রাকৃতিক গ্র্যাডিয়েন্টের অস্তিত্ব রয়েছে।”

মহাদেশীয় মার্জিনগুলো পৃথিবীর মোট মহাসাগরের ১১শতাংশ জুড়ে বিদ্যমান। একে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় “কার্বন সিঙ্ক” হিসেবেও বিবেচনা করা হয় এই মার্জিনকে।

 

তথসূত্রঃ

  • Proceedings of the Royal Society B
  • University of California, San Diego
ad