‘ঝুঁকিপূর্ণ টাম্পাকোতে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে’

Press briefing
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীর টাম্পাকো কারখানাটিতে ফয়েলস উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করা হতো। এখানে আনুমানিক ২৫ টন রাসায়নিক দ্রব্যাদি যেমন- ইথাইল অ্যাসিটেট ছিল, যা অতি দাহ্য পদার্থ। এতে যেকোনো সময় আবারও দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

এ ঝুঁকির মধ্যেই সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে উদ্ধার কাজ এগিয়ে চলেছে।

সোমবার প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্ত:বাহিনী গণসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

১০ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোর ৬টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ফলে কারখানার ভেতরে আগুন ধরে যায়। এ সময় ভবনের সামনের গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী, রিকশাচালক ও দুই যাত্রীসহ ১৪ জন ঘটনাস্থলে ও পরে হাসপাতালে ১১ জন নিহত হন। ১১ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে উদ্ধার অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করো হয়েছে আরও ৮ জনের লাশ। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।

সোমবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার কাজে চালিয়ে যাচ্ছেন।

লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ উদ্ধার কাজ কতোদিন চলবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে, যেন এ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। ১৩ সেপ্টেম্বর ঈদের দিন মঙ্গলবারও স্বল্প পরিসরে আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে।’

তিনি জানান, সোমবার সকাল ৭টা থেকে সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ১০০ জনের বেশি জনবল ও একটি মেডিকেল টিম এ এলাকায় কাজ করছে। বিধ্বস্ত ভবনটিতে কাজ করার জন্য সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনিয়ারিং প্যান যেমন এক্সাভেটার, লোডার ড্রাম্পার, ক্রেন ইত্যাদি এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অন্যান্য সরঞ্জামাদি নিয়োজিত রয়েছে।

১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের পাশাপাশি স্পেশাল অর্গানাইজেশন পশ্চিম, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় এ উদ্ধার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলটি পূর্ব-পশ্চিমে আনুমানিক ৬০০ ফুট, উত্তর দক্ষিণে ৩০০ ফুট। যার মধ্যে ৪টি বড় বড় বিল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি বিল্ডিং ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। সম্পূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় দিক থেকে ৩টি স্থান দিয়ে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এ অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যে স্থানগুলোতে হতাহতের পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সে স্থানগুলো দিয়েই কাজ শুরু হয়েছে।

ad