নিউইয়র্কে বাস টার্মিনালে হামলায় আকায়েদ দোষী সাব্যস্ত

Akade, wife, father-in-law, mother-in-law, detained,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বাস টার্মিনালে ‘আত্মঘাতী হামলার চেষ্টাকারী’ হিসেবে আটক হওয়া বাংলাদেশী আকায়েদ উল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে গ্র্যান্ড জুরি।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টে গ্র্যান্ড জুরির সামনে আকায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পেশ করেন প্রসিকিউটররা। পরে গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পক্ষে মত দেয়।

গত বছরের গত ১১ ডিসেম্বর সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের পর আকায়েদকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে ভর্তি করে নিউইয়র্ক পুলিশ।

২৭ বছর বয়সী আকায়েদের বিরুদ্ধে বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার, জনসমাগমস্থল ও পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টাসহ ছয় দফা গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাকি জীবন তাকে কারাগারেই কাটবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তারের পর জানিয়েছিলেন, আকায়েদ তার দেহের সঙ্গে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আকায়েদ ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তাদের দাবি।

চট্টগ্রামের বাসিন্দা আকায়েদ সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। প্রথমে ট্যাক্সিক্যাব চালালেও ২০১৫ সালের পর থেকে সে একটি আবাসন কোম্পানিতে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ করতো বলে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তারা জানিয়েছে, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের আকায়েদ উল্লাহ গত বছরের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলায় বিয়ে করে। তার শ্বশুর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের একটি দোকানে কাজ করেন। আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামে। গত বছরের ১০ জুন সন্তানের জনক হয় আকায়েদ। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে এসেছিল। ২২ অক্টোবর সে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যায়।

ফ্যামিলি ভিসা নিয়ে ৭ বছর আগে নিউইয়র্কে যান আকায়েদ। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, সে নিজে নিজেই এই ধরনের বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে সন্ত্রাসীদের প্রোপাগান্ডা দেখে। এমনও হতে পারে সে এমন কিছু সন্ত্রাসীদের ভিডিও দেখেছিল, যেটা তাকে ভুল বিস্ফোরক ডিভাইস বানাতে সাহায্য করেছিল।

২০১২ সালের মার্চ থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত লিমো ট্যাক্সি চালানোর লাইসেন্স ছিলো আকায়েদের। এরপর ওই লাইসেন্স আর নবায়ন করা হয়নি। তবে শহরের ইয়েলো ট্যাক্সি বা উবার চালানোর লাইসেন্স তার ছিল না।

ad