নৌকা প্রতীক পেলেন যুদ্ধাপরাধের আসামি

ad

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেলেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি আবুল খায়ের গোলাপ। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন থেকে এই মনোনয়ন পান তিনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এই আসামি নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আবুল খায়ের গোলাপ রাজাকার হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারাসহ স্থানীয় জনগণ হতবাক।

সুত্র মতে, আবুল খায়ের গোলাপ প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় ও জেলা আওয়ামী লীগকে টপকিয়ে কেন্দ্রে লবিং করে রহস্যজনকভাবে এই মনোনয়ন বাগিয়ে নেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামিকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া প্রসঙ্গে ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, ১৯৭১ সালের নবীগঞ্জ এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন আসামি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে কি না সেটা আমাদের জানার বিষয় না। সেটা আওয়ামী লীগের জানার বিষয়।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন,আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়নি।

এই মনোনয়নের ফলে মামলার তদন্ত কার্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি কেন্দ্রীয়ভাবে লবিং করে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই শতাধিক মটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে শোডাউন করে এলাকায় প্রবেশ করেন। এক্ষেত্রে এই মামলার তদন্তে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবার মুখে এখন একটাই আলোচনা, যুদ্ধাপরাধী এখন নৌকার কান্ডারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছে বলে আমরা স্থানীয় ভাবে তাকে সমর্থন দেইনি। কিন্তু কিছু নেতাকে টাকা খাইয়ে কেন্দ্র থেকে লবিং করে সে মনোনয়ন নিয়ে এসেছে। এতে করে দলের ইমেজ সংকট তৈরি হবে।   

আবুল খায়ের গোলাপ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান। আগামী ৪ জুন ঐ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে আবুল খায়ের গোলাপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ad