প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় আমরা কৃতজ্ঞ: ইয়াসমিন হক

জাফর ইকবাল অসম্ভব সৌভাগ্যবান, তিনি বেঁচে গেছেন, শাহবাগে ইয়াসমিন হক
ad

জাগরণ ডেস্ক: দেশ বরেণ্য লেখক এবং শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেছেন, জাফর ইকবাল অসম্ভব সৌভাগ্যবান। সবার দোয়া আছে বলেই তিনি বেঁচে গেছেন। ভাবুন, যারা বাঁচেনি, তাদের কি অবস্থা। সরকারের কাছে কিছু চাওয়ার নেই। যা করার তার চেয়ে বেশি করেছে, এখনও করছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় আমরা কৃতজ্ঞ।

সোমবার (৫ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মহিবুল হাসান মুকিত, হারুন-অর-রশিদসহ আরও অনেকে।

ইয়াসমিন হক বলেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ২০০ বই লিখেছেন, তার একটিতেও ইসলামবিরোধী কোনো কথা নেই। যদি ওই ছেলেটি জাফর ইকবালের একটি বইও পড়তো, তাহলে সে এমন কাজ করতো না। ওই ছেলেকে ভুল বুঝানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনও ওই পর্যায়ের শিক্ষার্থী আছে–যারা হতাশাগ্রস্ত, যাদের ভুল বুঝাতে পারে, অনেকেই আছে। তাদের পড়তে হবে, বুঝতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা সবাই বাঙালী ছিলাম, কোনো ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিষয় ছিল না। আমাদের সেক্যুলার দেশ। এতো বছর বাচ্চাদের তাহলে আমরা কি শিখিয়ে আসছি।

শাহবাগে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ইয়াসমিন হক বলেন, সবাই অসম্ভব সহযোগিতা করেছে। পুরো দেশের বাচ্চাদের ভালবাসা কিভাবে ফেরত দেবো, জানি না।

জাফর ইকবালের শারীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, চিকিৎসকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আমার বাবা আর্মির ডাক্তার ছিলেন। সিএমএইচে ড. ইকবালকে কাল সকালে প্রথম পাঁচ মিনিটের জন্য দেখা করতে দিয়েছিলেন। যেদিন এখানে নিয়ে আসা হলো, প্রথমে আইসিইউতে ঢুকিয়ে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। পরে গভীর রাতে আমরা সবাই বাসায় চলে গেলাম।

তিনি আরও বলেন, আগামী ছয় দিন সম্ভবত সিএমএইচেই জাফর ইকবালকে রাখা হবে। আমি চিকিৎসকদের বলেছি, যতদিন রাখার দরকার রাখেন, ওর রেস্ট হবে। যাতে তাড়াতাড়ি ভালো হয়। ক্যাম্পাসে ফিরে গেলেই সে খুশি হবে। জাফর ইকবাল সবসময় পুলিশকে বলতেন, ছাত্রদের কাছে আসতে দাও। হয়তো এরপর তিনি সতর্ক হবেন। আমরা ক্যাম্পাসে থাকি, যার যেটা কাজ, করে যাবো।

হামলার ঘটনার পর কি কি ঘটেছে এ সম্পর্কে জাফর ইকবাল জানেন না জানিয়ে তার স্ত্রী বলেন, তিনি কিন্তু কিছুই জানেন না, কী ঘটছে বাইরে। প্রধানমন্ত্রীর কাছেই আজ যেটুকু শুনেছেন। আপনারা সবাই জানতেন (জাফর ইকবালের প্রতি) হুমকি আছে। সাস্ট এর শিক্ষার্থী ও ছোট বাচ্চা সারাদেশে যারা আছে, তোমরা তো জানো বিষয়টা।

তিনি জানান, আমি বারবার আত্মীয়দের নিষেধ করেছি সেখানে যেতে। আমাদের জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টা কেউ ঢুকবে না। আমি চিকিৎসকের মেয়ে, আমি জানি। জাফর ইকবাল সুস্থ এবং তার জ্ঞান ছিল, তাই আমিও যাইনি।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে যারা দেখতে গেছেন, তারা যদি দেখেন আমিই ঢুকছি না, তাহলে কেউই ঢুকতে চাইবেন না। আমি যখন গতকাল সকালে ৫ মিনিটের জন্য ঢুকেছিলাম তখন জাফর ইকবাল জানতে চেয়েছিলেন, তিনি এখানে কেন? এই সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে। আমি তাকে জানাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়েছেন। উনি এত ব্যস্ততার মধ্যেও খবর নিয়েছেন।

ad