ফুটপাতে শুয়ে থাকব, কী করার আছে: মওদুদ আহমেদ

ad

জাগরণ ডেস্ক: আইনি লড়াইয়ে হারের পর রাজউকের অভিযানে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ প্রশ্ন রেখেছেন- দেশে কি আইন নেই? জোরের বিরুদ্ধে, বেআইনি শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের মত নাগরিকদের করার আর কী থাকে?”

গত তিন দশক ধরে যে বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন, সেই বাড়ির ফটকের সামনে দাঁড়িয়েই রবিবার (৭ জুন) দুপুরে মওদুদের এই প্রতিক্রিয়া। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রাজউকের কর্মীরা তখন ওই বাড়ি থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন।

মওদুদ বলেন, আমরা রাজনীতি করি বলে, বিরোধী দল করি বলেই কি আজকে এই অবস্থা? সরকারি দলের কেউ হলে আজকে এরকম হত? আজকে বিরোধী দল করি বলেই প্রতিহিংসার এই চরম দৃষ্টান্ত।

গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ১৫৯ নম্বর প্লটের ওই বাড়িতে মওদুদ আহমেদ বসবাস করে আসছিলেন ১৯৭২ সাল থেকে। কিন্তু ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করে মওদুদের ভাইয়ের নামে ওই বাড়ির দখল নেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে দুদক মামলা করলে চার বছর আগে আইনি লড়াই শুরু হয়।

ওই মামলায় মওদুদ সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গেলেও রায় তার বিপক্ষে যায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও গত রবিবার তা খারিজ হওয়ায় মওদুদের বাড়ি ছাড়া অনিবার্য হয়ে পড়ে।

এরপর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বুধবার দুপুরের দিকে ওই বাড়ির দখল বুঝে নিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।

বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী ও স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মওদুদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা ছিল সেটার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে… কোনো আইন নেই? যে এত দিনের মধ্যে আপনাকে বাড়ি ছাড়তে হবে? আজকে আদালতের কোনো অর্ডার আছে? তাদের (রাজউক) কোনো অর্ডার আছে? একটা বাড়িতে ঢুকে গেল! আমাদের দেশে কি আইন নেই?”

আদালতে একটি মামলা করেছেন জানিয়ে মওদুদ বলেন, দেওয়ানী মামলা নাম্বার ৫৬১-২০২৬। সেই মামলা রাজউকের বিরুদ্ধে এবং সরকারের বিরুদ্ধে। তারা যেন কোনোভাবে আমাকে ডিস্টার্ব না করে। এবং আমার যে দখলের স্বত্ত্ব- এতে যেন তারা কোন বিঘ্ন না করে। তাদের ওপরে সমন জারি হয়েছে, ১৯ জুলাই শুনানির তারিখ দেওয়া হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনি কী করে বললেন এটা রাষ্ট্রের সম্পত্তি? এটা রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে যে এটা সরকারি সম্পদ নয়।”

বিরোধী দলের রাজনীতি করার কারণেই ‘এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা। দেশে আইনের শাসন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও ফের আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথাই বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

ad