মিয়ানমারে নিখোঁজ সামরিক বিমানের ধ্বংসাবশেষ আন্দামান সাগরে

Myanmar, plane, debris, Andaman Sea
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শতাধিক আরোহী নিয়ে আকাশে থাকা মিয়ানমারের একটি সামরিক বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষ এবং আরোহীদের মৃতদেহ আন্দামান সাগরে পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) সকালে নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে বলে ফেসবুকে এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে আন্দামান সাগরে এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। সেখান থেকে একটি চাকা, বেশ কিছু লাইফ জ্যাকেট এবং লাগেজ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (৭ জুন) দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়) বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ফেসবুক পাতার তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, উড্ডয়নের ২৯ মিনিট পর দাভেই শহরের ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে আন্দামান সাগরে থাকা অবস্থায় এটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন উড়োজাহাজটি ১৮ হাজার ফুট ওপরে ছিল।

মায়িক থেকে ইয়াঙ্গুনের দিকে যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই বিমানটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটির অবস্থান ছিল দাওয়ে শহর থেকে ২০ মাইল পশ্চিমে। বিমানটির সন্ধানে কয়েকটি জাহাজ ও বিমান নিয়ে অভিযান শুরু হয়। বিশেষ করে আন্দামান সাগর এলাকায় অনুসন্ধান তৎপরতা পরিচালনা করা হচ্ছিল।

চীনের নির্মিত বিমানটিতে ১২০ জন আরোহী ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। আরোহীর সংখ্যা ১০৫ বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছিল বিবিসি, পরে সামরিক বাহিনী সংখ্যাটি ১২০ বলে জানায়। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বিমানে থাকা আরোহীদের মধ্যে ১০৬ জন সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্য। বাকি ১৪ জন ক্রু।

বিমান নিখোঁজের পর মায়িক বিমানবন্দরে কর্মরত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কিয়াও তেই রয়টার্সকে বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বিমানটির কি হয়েছে, তা আমরা এখনও জানি না। উড্ডয়নের সময় আবহাওয়া ভালো এবং আকাশ পরিষ্কার ছিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটি থেকে কোনও জরুরি বিপদ সংকেত পাঠানো হয়নি। আবার ধ্বংসাবশেষের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে না বিমানটি মাঝ আকাশে ভেঙে পড়েছে। বিধ্বস্ত বিমানটির সব আরোহীরই মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদি সে আশঙ্কা সত্যি হয়, তবে এটি মিয়ানমারের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। কেননা, দেশটিতে বিমান দুর্ঘটনায় এর আগে এতে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হয়নি।

ad