যেভাবে মৃত্যু হয়েছিল তাসফিয়ার

jagoran- tasfia
ad

জাগরণ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের লাশ কর্ণফুলীর তীরে উদ্ধারের পর তার স্বজনরা খুনের সন্দেহ করলেও তদন্ত শেষে পুলিশ বলেছে, সে আত্মহত্যা করেছিল।

রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার সরকার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে তাসফিয়া আমিন আত্মহত্যা করেছেন- এমনটা উল্লেখ করে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ছয় আসামীকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সাতজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর দেয়া তথ্য, পুলিশের তদন্ত, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আত্মহত্যা হিসেবেই এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় আদালতে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক স্বপন সরকার জানান, ভিসেরা রিপোর্টে তাসফিয়ার শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, ধর্ষণের কোনো প্রমাণও নেই। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এ মামলার সব আসামী গ্রেপ্তার আছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জানাগেছে এটি আত্মহত্যা।

তবে পুলিশের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছেন তাসফিয়া আমিনের মা নাইমা খানম। তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে তাসফিয়ার পাথরের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গায়ে অনেক দাগ ছিল। আত্মহত্যা করলে তার গায়ে দাগ থাকবে কেন? আমরা পুলিশের প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজি আবেদন জানাব আদালতে। পাশাপাশি মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্যও আবেদন করা হবে।

গত ২ মে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাট থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ; তখন তার পরিচয় জানা যায়নি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা লাশের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর জানা যায়, এই তরুণী নগরীর ও আর নিজাম রোডের বাসিন্দা মো. আমিনের মেয়ে তাসফিয়া আমিন। তিনি পড়েন নগরীর সানশাইন ইংলিশ গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণিতে।

এ ঘটনায় পরের দিন ২ মে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় আসামি হিসেবে তাসফিয়ার ফেসবুক বন্ধু আদনান মির্জা, সৈকত মিরাজ, আশিক মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম, মো. মোহাইন ও মো. ফিরোজের নাম উল্লেখ করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ১ মে বিকেলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাসফিয়া। পরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় তাসফিয়া তার বন্ধুকে নিয়ে আইসক্রিম খায়। পরে তারা দুজনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। পরের দিন তাসফিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ad