রথীশ একাধিক পরকীয়ায় জড়িত ছিল, দাবি স্ত্রীর

Kill, Rothish
ad

জাগরণ ডেস্ক: রংপুর জেলা বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা নিজেও একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী স্নিগ্ধা।

স্বামী রথীশকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া ১২ পাতার জবানবন্দীতে দীপা এমন দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, রথীশ আমাকে প্রায় সময় মারধর করতেন। এ কষ্টের কথা আমি সহকর্মী কামরুল ইসলাম জাফরির কাছে বলি। কথা বলতে বলতে আমরা প্রেমাসক্ত হয়ে পড়ি।

দীপা বলেন, একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল রথীশ। আমাকে অবজ্ঞা-অসম্মান করত। শুধু তাই নয়, আমার বিবাহিত জীবন ছিল অশান্তিতে ভরা। পরস্পরকে কেউ বিশ্বাস করতাম না। আমাকে অবিশ্বাস করায় আমিও স্বামীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারিনি। আমাকে প্রায় মারধর করা হতো।

তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে বাড়িতে স্বজনদের নিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়। এ কারণে আমাদের মধ্যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এসব কষ্টের কথা আমার সহকর্মী জাফরিকে জানাই। একপর্যায়ে আমার সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমে জড়াই। পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার (৪ এপ্রিল) রংপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, পারিবারিক কলহ, সন্দেহ ও পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে স্ত্রী দীপা ভৌমিক তার স্বামী রথিশ চন্দ্রকে হত্যা করে। এই কাজে সহায়তা করেন তার কথিত প্রেমিক কামরুল মাস্টার।

স্নিগ্ধার ভাষ্যমতে, দীর্ঘ দুই মাস ধরে আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল স্নিগ্ধা ও তার প্রেমিক কামরুল মাস্টার। আগে থেকেই তাজহাট মোল্লাপাড়ার দুই কিশোরের সহযোগিতায় ২৮ মার্চ একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে গর্ত করে রাখেন তারা।

২৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ১০টার শয়নকক্ষে রথিশ চন্দ্রকে ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হয়। এ সময় তিনি অচেতন হলে স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশ শয়নকক্ষেই রাখা হয়।

স্নিগ্ধা আরও জানান, হত্যার পর লাশ বাড়ির আলমারিতে ঢুকিয়ে রাখেন তারা। পরের দিন শুক্রবার কামরুল মাস্টার ভোর ৫টায় ওই বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে সকাল ৯টায় কামরুল একটি রিকশাভ্যান নিয়ে আসে।

এরপর আলমারি পরিবর্তনের কথা বলে তা নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির অদূরে তাজহাট মোল্লাপাড়ার সেই নির্মাণাধীন ভবনে, যেখানে আগে থেকেই গর্ত করে রাখা হয়েছিল। পরে সেই গর্তেই লাশ পুঁতে ফেলে তারা। আলমারি বহন ও লাশ ভ্যানে তোলার কাজের জন্য তিনজনকে কামরুল মাস্টার আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল।

বেনজির আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রথিশ চন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১১টায় তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রথিশের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিককে ঘটনাস্থলে নেওয়া হলে তিনি তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, বালু খোঁড়াখুঁড়ি ও লাশ লুকানোর সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামান। তাদের বাড়ি তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকায়।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা ২৬ মার্চ কামরুল মাস্টারের নির্দেশে ৩০০ টাকার বিনিময়ে মোল্লাপাড়ার নির্মাণাধীন ভবনের নিচে বালু খুঁড়ে রাখে। পরবর্তীতে ৩০ মার্চ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ওই লাশ বালু দিয়ে গর্তে ঢেকে রাখে তারা। কামরুল মাস্টার তাদের শিক্ষক হওয়ায় তারা আদেশ পালন করেছে বলে জানায়।

ad