প্রাইভেটকারে তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক আটক (ভিডিও)

ad

জাগরণ ডেস্ক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় এক তরুণীকে জোর করে প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো- গ ২৯৫৪১৪) তুলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রনি হক নামে একজনকে ধাওয়া করে আটক করেছে জনতা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

শনিবার (৯ জুন) রাতে রনি ও তার ড্রাইভার একটি মেয়েকে জোর করে তাদের প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠে।

এ সময় রাস্তায় থাকা লোকজন কলেজ গেট এলাকা থেকে প্রাইভেটকারটি আটক করে। পরে সেখান থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং রনি ও তার ড্রাইভারকে গণপিটুনি দেয় পথচারীরা। পরে চালক পালিয়ে গেলেও রনিকে আটক করে পুলিশ।

অভিযুক্ত রনি হক দুই সন্তানের জনক। বেসরকারি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এই সাবেক ছাত্র পেশায় ব্যবসায়ী।

শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিজি বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও নির্যাতনের শিকার মেয়েটির কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ। তবে অভিযুক্ত রনিকে আটক ও তার প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে।

জানাগেছে, কলেজগেট সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকারের ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন রনি। ওই সময় আরেকটি গাড়িতে ছিলেন রাফি আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি মনে করছিলেন গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা চলছে।

এরপর রাফিসহ সেখানে থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে রনির প্রাইভেটকারটি আটকে ফেলেন। তখন তারা দেখতে পান গাড়ির পেছনের আসনে রনি এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। পরে জনতা গাড়ির ভেতর থেকে আক্রান্ত তরুণী, অভিযুক্ত মদ্যপ তরুণ ও গাড়িচালককে বের করে আনেন।

তরুণী জনতাকে জানান, তাকে রাস্তা থেকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এরপর জনতা ওই তরুণ ও গাড়িচালককে উত্তমমধ্যম দেন।

শেরেবাংলা নগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় কলেজগেট থেকে মদ্যপ এক তরুণকে মাতলামি করার অভিযোগে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি ডিউটি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় যোগাযোগ করলে ডিউটি অফিসার আবদুল জলিল জানান, এসআই মিনহাজ আহমেদের নেতৃত্বে ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেন ডিউটি অফিসার।

পরে থানা থেকে দেয়া মোবাইল ফোন নম্বরে এসআই মিনহাজ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সর্বশেষ দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে শেরেবাংলা নগর থানায় ফের যোগাযোগ করে জানা যায়, অভিযুক্ত রনি হকের বিরুদ্ধে তখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নথিভুক্ত হয়নি।

ডিউটি অফিসার আবদুল জলিল জানান, থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

ঘটনা সম্পর্কে রাফি আহমেদের বিবরণ “আজ অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর, কলেজগেট সিগন্যালে ঠিক আমার সামনের গাড়িটাতে লক্ষ্য করে দেখি ভেতরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ধস্তাধস্তি করছে এবং গাড়ির ড্রাইভারের গাড়ি চালানোর ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছিল যে, সে গাড়িটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দুর্ভাগ্য তাদের, রাস্তায় তীব্র জ্যাম থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি। এমতাবস্তায় আমি আমার গাড়ি থেকে নেমে সামনে যেতে যেতে দেখি আরও কিছু লোক গাড়িটির দিকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে। তখনো ভাবতে পারিনি এতটা নিচ ও নিকৃষ্ট ঘটনার চাক্ষুস প্রমাণ হতে যাচ্ছি।

আমি গাড়িটির কাছে যেতেই দেখি ছেলেটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করচ্ছে। গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে আমরা মেয়েটিকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি, পরে অপর পাশের দরজা খুলতেই দেখি অতিপরিচিত সেই ছেলেটি অর্থাৎ বড়লোক বাবার বখে যাওয়া নষ্ট সন্তান। ছেলেটিকে বাইরে বের করতে গিয়ে সহ্য করতে হয়েছে বাজে মদের গন্ধ। আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। অতঃপর বসিয়ে দিলাম ওই জানোয়ারের কানের নিচে আমার বাম হাতের পাঁচ আঙুলের চিহ্ন। এর পর ক্ষুব্ধ জনতা চিলের মতো করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বাকি দায়িত্ব পালন করল।

পরে মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারলাম, ওই নর-পিচাশটা মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে।

রাফি আহমেদের ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই অভিযুক্ত হিসেবে রনি হককে চিহ্নিত করেন। তারা রনির ফেসবুক আইডিও শেয়ার করে তার বিচার দাবি করেছেন।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন এখানে: 

ad