রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে শাহবাগে সমাবেশ

slogan
ad

জাগরণ ডেস্ক: রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা যুবলীগের নেতা নরুল ইসলাম হত্যাকান্ডের জের ধরে স্থানীয় সেটেলাররা পাহাড়ি অধ্যুষিত গ্রাম টিনটিলাসহ দুইটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেটেলারদের অমানবিক এই নির্যাতনের প্রতিবাদে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আজ বিকাল সাড়ে তিনটায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা মহানগর পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রচার সম্পাদক অমর শান্তি চাকমার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সুলভ চাকমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি চাকমা, ঢাকা মহানগর শাখার দপ্তর সম্পাদক মিসি মং মারমা, লংগদু উপজেলার বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুনি চাকমা ও অনন্যা চাকমা।

সুলভ চাকমা বলেন, “এই দেশের জন্য একাত্তরে বাঙালিদের সাথে পাহাড়িরাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল দেশকে স্বাধীন করার জন্য। অথচ আজ পাহাড়িদেরকে স্বাধীন দেশ থেকে উৎখাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমতল থেকে বাঙালিদের পাহাড়ে পুনর্বাসন করে বিশেষ মহলের সাহায্যে পাহাড়িদের একের পর এক ভূমি দখল করে পাহাড়িদের ভূমিহীন করে দেশত্যাগে বাধ্য করছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি চাকমা বলেন, “আমরা এই বাংলাদেশকে ভালোবাসি অথচ আমাদের পাহাড়ি সন্ত্রাসী বলে নিপীড়ন করা হচ্ছে, নির্যাতন করে স্ব-ভূমি থেকে উৎখাত করা হচ্ছে। পাহাড়ি জনগণ সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে।”

লংগদু উপজেলার বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুনি চাকমা ও অনন্যা চাকমা বলেন, “যে নুরুল ভাইয়ের হত্যার প্রতিবাদে আমাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হল তার ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলে আমিও চড়েছি, তার হত্যার জন্য কে দায়ী সেটা এখনও স্পষ্ট নয় অথচ আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হল। এই গ্রীষ্মকালীন বন্ধে আগামিকাল বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল, অথচ আজ আমার বাড়ি বিনা কারণে জ্বালিয়ে দেওয়া হল।”

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে শেষ হয়।

উল্লেখ্য, সেটেলাররা এই হামলার সময় লংগদু উপজেলার জনসংহতি সমিতির অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও হেডম্যানের বাড়িও জ্বালিয়ে দেয়।

ad