রাজাকারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবিতে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত

Rajakar
ad

জাগরণ ডেস্ক: রাজাকারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও তাদের নাগরিক অধিকার সংকোচনের দাবিতে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

শুক্রবার (১০ আগস্ট) বিকাল ৪টায় শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠন গৌরব’৭১এর আয়োজনে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

তাদের দাবিগুলো হলো-

১. যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব বাতিল ও তাদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

২. ভিয়েতনামের মত দেশদ্রোহীদের অধিকার সংকুচিত আইন জারি করতে হবে।

৩. প্রশাসনে রাজাকারদের বংশধরদের অনুপ্রবেশ আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৪. যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সন্তানদের সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ দেয়া যাবে না।

সমাবেশে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য হাজেরা সুলতানা এমপি, ব্যরিষ্টার তুরিন আফরোজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইয়াসিন আলী, আওয়ামী শিক্ষা উপ কমিটির সদস্য নুরজাহান আক্তার সবুজা, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, কবি ও লেখক আসলাম সানি, নারীনেত্রী মাসুদা খানম মেধাসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

rajakar somabesh

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গৌরব ৭১ এর সভাপতি এস এম মনিরুল ইসলাম মনি এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন।

সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, আজকে এদেশের মানুষ দুইভাগে বিভক্ত। এদের একপক্ষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আরেক পক্ষ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। আর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা এখন পর্যন্ত এদেশকে মেনে নিতে পারেনি। তারা যে কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার কাজে লিপ্ত।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজাকারদের বাড়িগুলোতে আলাদা রং দেয়া উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ সেই রং দেখে তাদের দিকে ঘৃণার চোখে তাকায়। রাজাকারদের প্রতি মানুষের ঘৃণা বাড়াতে ঘৃণাস্তম্ভ তৈরির করার পরামর্শ দেন এ বক্তা।

সমাবেশে হাজেরা সুলতানা এমপি বলেন, আজকে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আমরা রাজাকারদের নিয়ে কথা বলছি। তাহলে এতো বছর আমরা কি করেছি?জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধী গোলাম আযমদের এদেশে এনেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন।এমনকি তাদের এমপি -মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছেন। আর এসব কারণে এখনো এদেশে রাজাকাররা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমননি রাজাকারদের সন্তানরা আজকে এদেশের বিরুদ্ধে লেগেছে।

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল চেয়ে রাজাকারদের সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেছে। এমনকি কোমলমতী বাচ্চাদের আন্দোলনেও গুজব ছড়িয়ে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেছিল রাজাকারের দোষররা।

তিনি আরেও বলেন, আমাদের সচেতন থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো ক্ষতি করতে না পারে। রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও তাদের নাগরিক অধিকার সংকোচনের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন বলে জানান তিনি।

ব্যরিষ্টার তুরিন আফরোজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, অনেকে বলেন রাজাকারদের বংশধররা কেন তাদের পূর্ব পুরুষের কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পাবে? আমি বলতে চাই,আপনারা দেখেন, এদেশ বিরোধী যে কোনো চক্রান্তে রাজাকারের সন্তানদের যোগসূত্র রয়েছে। এরাই হচ্ছে নব্য রাজাকার। সাপের বাচ্চা সাপই হয়।

তিনি বলেন, ভিয়েতনাম রাষ্ট্র যদি রাজাকারদের অধিকার সংকুচিত করতে পারে, তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশ কেন রাজাকারদের অধিকার সংকোচিত করতে পারবে না?

জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইয়াসিন আলী এমপি বলেন, আজকে গৌরব ৭১ সংগঠন যে দাবি নিয়ে সমাবেশ করেছে, সেই দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা জানিয়ে বলতে চাই, এ দাবিগুলো সময়ের দাবি। যেদেশে দীর্ঘ সময় পরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হয়েছে, সেদেশে রাজাকারদের তালিকা করা মোটেও অসম্ভব কিছু নয়।আর এ তালিকা করা গেলে বুঝা যাবে কারা এদেশের বন্ধু আর কারা এদেশের শত্রু।

Somabesh

তিনি বলেন, আজকে শিশু কিশোরদের নিরাপদ সড়কের যৌক্তিক আন্দোলনেও স্বাধীনতা বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল।কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। রাজাকারের তালিকা করে এদের চেহারা প্রকাশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সমাবেশের সঞ্চালক ও গৌরব ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন বলেন, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জানাতে হলে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা অতীব জরুরি।

কোটা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি দেশপ্রেমিক হন তাহলে দেখি আপনারা আপনাদের এলাকার রাজাকারের তালিকা করে দেশপ্রেমের পরিচয় দিন।

এই সমাবেশ থেকে কানাডা থেকে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফেরত আনতে ১ কোটি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।

সমাবেশে বিবার্তা২৪ ডটনেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসিসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ad