‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এসব হত্যাকাণ্ড’

ad

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা ব্লগার বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তাদের ওপর আঘাত আসছে। কোনো আক্রমণকেই সরকার সহজভাবে নিচ্ছে না। আইনি প্রক্রিয়ায় আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের কেউ বাঁচতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানাতে এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়। যৌথসভার পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সৈয়দ আশরাফ।

হত্যাকাণ্ডের দায় বিএনপি-জামায়াতের ওপর চাপানো হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন বিএনপি তো এখন ক্ষমতায় নাই। তারপরেও কিন্তু তারা রাজনীতির জন্য সময় দেয় না। মাঝে মাঝে আসে, একদিন-দুই দিন কথা কয় তিন-চার মাসে কোনো খবর নাই। তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

ওলামা লীগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, আমাদের জয়েন্ট সেক্রেটারি ক্লিয়ার করে বলে দিয়েছেন ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের অঙ্গ কিংবা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন নয়। ওলামা লীগ যদি ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে থাকে এটা তাদের বিষয়।

দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন হওয়ায় দল, রাজনীতি ও সংবিধান লাভবান হয়েছে উল্লেখ করে আশরাফ বলেন, পৃথিবীর যেখানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা আছে, সেখানেই দলীয়ভাবে নির্বাচন হয়। আমাদের এখানেই ছিল ব্যতিক্রম। শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচন রাজনৈতিক দলভিত্তিক হবে আর সমস্ত নির্বাচন হবে অন্যভাবে। এটা সামরিক সরকারের মাথা থেকে এসেছে। আপনাদের আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যদি স্মরণ থাকে, দেখবেন এবারই সব চেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে সারা দেশে এর থেকে বেশি মারামারি-কাটাকাটি ছিল। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা থাকায় সংঘাত কমে গেছে। আমরা এটা শুরু করেছি, অন্য দলগুলো এভাবেই করবে। আরেকটা ইলেকশনের পরেই দেখবেন এটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

কেন্দ্রীয় কার্যালয় বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। বর্তমান ঠিকানায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে বিধায় সেখান থেকে ৩০ মের মধ্যে দলটির সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যালয় সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কার্যালয়টির নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

গত ৬ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নতুন এই ভবনের নকশা অনুমোদন করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ad